বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের গানের পাখি নন্দিতা দাস

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৩ পিএম
চাঁদপুরের গানের পাখি নন্দিতা দাস
একজন নারীর সাংস্কৃতিক অঙ্গণে নিজের চ্যালেঞ্জিং জীবনযাত্রাতেও সফল চাঁদপুরের গানের পাখি নন্দিতা দাস। গ্রামীণ পরিবেশ হতে বেড়ে ওঠা এই নারীকে সুপরিচিত গায়িকা হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে পারি দিতে হয়েছে নানান প্রতিকূলতা। আর এই পুরো সংগ্রামী জীবনে নিজের আগ্রহ ও একাগ্রতাকেই তিনি কাজে লাগিয়েছেন।
১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে নিজের গান চর্চার ক্যারিয়ারের আদ্যোপান্ত জানিয়েছেন এ প্রতিবেদককে।
জানা যায়, নন্দিতা দাসের জন্ম ১৯৯০ সালের পহেলা মে। তিনি ইলিশের বাড়ী খ্যাত জেলা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের আলীগঞ্জ এলাকার মন্টু চন্দ্র দাস ও কনিকা রানী দাসের সন্তান। ছোট বেলা থেকেই তার গানের প্রতি ছিল প্রচন্ড ভালোবাস ও আগ্রহ। আর তা থেকেই মাত্র ১০ বছর বয়সেই সংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি হয় হাজীগঞ্জের অন্যতম সঙ্গীত গুরু ওস্তাদ নিহার রঞ্জন হালদার (মিলন) এর হাতে ২০০০ সালে। এরপর হাজীগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে ৩ বছর ব্যাপী সংঙ্গীতের বিভিন্ন শাখায় শিক্ষা গ্রহন করেন। পরবর্তীতে সারদা দেবী সংগীত নিকেতন থেকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও সাধারণ সঙ্গীতের উপর ৫ বছরের কোর্স সম্পূর্ন করেন।
আরও জানা যায়, নন্দিতা দাস হাজীগঞ্জের সঙ্গীত শিল্পী মানিক রায়, চাঁদপুরের প্রবীণ সংগীত গুরু শান্তি রক্ষিত, কুমিল্লার প্রবীণ সংগীত গুরু অলোকা দাসের কাছে সংঙ্গীত এর  বিভিন্ন শাখায় তালিম নেন। এরপর সংগীত শিক্ষার পাশাপাশি ২০০৫ সাল থেকেই সংগীত শিক্ষক নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১২ সালে শাহরাস্তি সংগীত একাডেমির শিক্ষক হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকতার যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি শাহরাস্তি কালচারাল ইনস্টিটিউট, হাজীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি, হাজীগঞ্জ পৌর কিশোর-কিশোরী ক্লাব এবং হাজীগন্জ মৈএী শিশু উদ্যানে সংগীত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
নন্দিতা দাসের পরিবার থেকে জানা যায়, এক সময় সংগীত শিল্পী নুরে আলম সিদ্দিকীর অনুপ্রেরণায় ২০০৮ সাল থেকে মঞ্চে গান গাওয়া শুরু করেন নন্দিতা দাস। সেই থেকে একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে নন্দিতা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঞ্চে গান পরিবেশন করে নিজের দর্শক শ্রোতা ও জনপ্রিয়তা তৈরি করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও পার্শবর্তী দেশ ভারতের আগরতলা, কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে গান পরিবেশন করে নন্দিতা।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে সংগীত শিল্পী নন্দিতা দাস বলেন, ২০১৪ সাল হতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘পল্লীগিতী’ শাখায় সংগীত শিল্পী হিসেবে তালিকা ভুক্ত হয়ে রঙের বাজার, হিজল তমাল, নব-জাগরণ, শেকড়ের গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত ভাবে গান পরিবেশন করছি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বেতারে ‘পল্লীগীতী ও আধুনিক গান’ শাখায় সংগীত শিল্পী হিসেবেও তালিকাভুক্ত হয়ে নিয়মিত ভাবে গান পরিবেশন করছি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়াও মাছরাঙা টেলিভিশন, মাই টিভি, এটিএন বাংলা, বাংলা ভিশন, বাংলা টিভিসহ দেশের অধিকাংশ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই আমি গান পরিবেশন করেছি। এগুলোর মধ্যে আধুনিক গান, নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, লোক গানের পাশাপাশি বেশ কিছু মৌলিক গানও রয়েছে। এখন অবদি প্রায় ২০টির মতো মৌলিক গান রেকর্ড রয়েছে আমার। যা বিভিন্ন টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত হয়েছে।
নন্দিতা দাস বলেন, আমার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালায় কর্তৃক উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পদকসহ দেশ বিদেশের অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছি। এককথায় গানই আমার একমাত্র নেশা ও পেশা। আপাদমস্তক একজন গানের মানুষ হিসেবে আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা হলো নিজের প্রতিষ্ঠিত নিশিতা সংগীত একাডেমীর মাধ্যমে সংগীত শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটানো এবং গানের সাথে জীবন অতিবাহিত করা। আমি ও আমার পরিবারের জন্য সবার আশির্বাদ চাই।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।