শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কথার ফুলঝুরি আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে মানুষ আর বিভ্রান্ত হতে চায় না : শেখ জয়নাল আবেদীন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৪৩ পিএম
কথার ফুলঝুরি আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে মানুষ আর বিভ্রান্ত হতে চায় না : শেখ জয়নাল আবেদীন

কল্যাণপুর ইউনিয়নে হাতপাখার প্রার্থী শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন নির্বাচনে গনসংযোগ করছেন।

কল্যাণপুর ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন নির্বাচনী মতবিনিময় ও ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের মিলিটারির দোকান, কল্যাণদী হুজুরের বাড়ী, সফরমালী, দাসাদী সহ বিভিন্ন এলাকায় হাতপাখা মার্কার ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
এর আগে ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলন, সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল ও ওয়ার্ড সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে মিলিটারির দোকান এলাকায় ইউনিয়নের দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করা হয়।
মতবিনিময় ও গণসংযোগকালে শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। কথার ফুলঝুরি আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে সাধারণ মানুষ আর বিভ্রান্ত হতে চায় না। বিগত দিনে যারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়েছে, তারা ক্ষমতা পেয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। চুরি, ডাকাতি আর দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। সাধারণ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে বেগম পাড়া গড়ে তুলেছে। অতএব সেই দল আর দলের নেতাদের মানুষ আর ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নেবে না।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চোখ মুখের দিকে তাকালে বুঝা যায়, মানুষ কি চায়। সাধারণ মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন আর স্বৈরাচারী কাউকে মানুষ আর ভোট দিবে না।
শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ৫৪ বছরের দুঃশাসন, দুর্নীতিবাজ আর চাঁদাবাজদের থেকে মুক্তি পেতে ইসলামের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে। শান্তির প্রতীক হাতপাখায় ভোট দিতে হবে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে, শ্রেণী ভেদে বৈষম্য দূর করতে ইসলামী অনুশাসন প্রয়োজন। আমরা বিগত দিনে এমপি, মন্ত্রী ও নেতাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখেছি। কিন্তু সমাজের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নতি হয়নি।
তাই আসুন আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে, সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে, সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে হাতপাখার বিজয় নিশ্চিত করি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মাওলানা নুরুল আমিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওলানা বেলাল হোছাইন, আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ বেলাল, জেলা ইসলামী আন্দোলনের জয়েন্ট সেক্রেটারী শাহ জামাল গাজী সোহাগ, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন বিন নুরী, সরকারি অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক আসাদুল্লাহ সুমন, জেলা যুব আন্দোলনের নেতা নেয়ামত উল্লাহ ফরিদ, জেলা ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, সদর উপজেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি নাসিরুল্লাহ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আহমেদ, সদর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের নেতা সিরাজুল ইসলাম, মারুফ সরদার, কল্যাণপুর ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি কাদের বাউল, সেক্রেটারী বিল্লাল হোসেন গাজী, ইউনিয়ন যুব আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ মাসুম বকাউল, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন প্রমুখ।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্বশীলবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’