শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

তারেক রহমানকে কটূক্তির প্রতিবাদে ফরিদগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৮ পিএম
তারেক রহমানকে কটূক্তির প্রতিবাদে ফরিদগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম.এ. হান্নানের কুরুচিপূর্ণ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর তাকে অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জিয়া পরিবারের প্রতিটি সদস্য আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের কঠিন সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কিন্তু আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম.এ. হান্নান গত ২১ নভেম্বর শোল্লা আশেক আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রকাশ্যে তারেক রহমান সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এটি অগ্রহণযোগ্য ও ক্ষমার অযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, তার এই বক্তব্যে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন পাটওয়ারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম.এম. টুটুল পাটওয়ারী, জেলা যুবদলের সদস্য ফজলুর রহমান, সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান, পৌর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান, পেয়ার আহম্মদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাওন পাঠান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হোসেন সর্দার, সাবেক সম্পাদক হারুনুর রশিদ পাঠানসহ অন্য নেতাকর্মীরা। বিদেশ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপি নেতা শরীফ খান।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’