শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তির সূচীপাড়া উত্তরে ধানের শীষের গণসংযোগ ও পথসভা

বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে : ইঞ্জিঃ মমিনুল হক

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:২৮ পিএম
বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে : ইঞ্জিঃ মমিনুল হক
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নে দিনব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ ও ৬টি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫ ) ইউপি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এসব পথসভার আয়োজন করা হয়।
ইউপি বিএনপির সভাপতি মোঃ আলী আকবর বেপারির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক। তিনি তার বক্তব্য বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক—এ সত্যকে পুনরুদ্ধার করতেই আমাদের আন্দোলন।তিনি আরও বলেন—ভবিষ্যতে কোনো জুলুম-নির্যাতন, হয়রানি বা মিথ্যা মামলা চলতে দেওয়া হবে না।
প্রশাসনিক অপব্যবহার, অকারণ দরবার সংস্কৃতি ও ক্ষমতার দম্ভের অবসান ঘটিয়ে মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভিত্তি গড়া হবে।নির্বাচিত হলে বিনা ওয়ারেন্ট বা বিচারবহির্ভূত পুলিশি হয়রানির অবসান, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণে দক্ষ মানবসম্পদ গঠন,রেশন কার্ড, কৃষি কার্ড, হেলথ কার্ড ও ‘আদার কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জনসেবায় কাঠামোগত সংস্কার, তরুণদের মাদক, পরকীয়া ও পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টিকারী প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উদ্যোক্তা ও আউটসোর্সিং খাতে যোগ্য করে তোলা, মাধ্যমিক–উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় বাড়তি গুরুত্ব,চলমান সরকারি ভাতা বৃদ্ধি এবং মসজিদের ইমাম–মোয়াজ্জেমদের জন্য ন্যায্য ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
আজ মোবাইল ফোনের ভুল ব্যবহারে সংসারে ভাঙন বাড়ছে, শিশু অনাথ হচ্ছে—এ বাস্তবতা রোধে সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন।তিনি বিএনপির স্বপ্ন তুলে ধরে বলেন, গুড গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠাই আগামী দিনের লক্ষ্য। একই সঙ্গে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে আশা প্রকাশ করেন—তিনি সুস্থ হয়ে জীবনে শেষবারের মতো ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচন করবেন।বক্তব্য শেষে আয়োজক ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন—শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়াত আলী ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটওয়ারী, মোঃ জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম পাটোয়ারী লিটন, হাছান আহম্মেদ টিপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, আলী হোসেন মন্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজি, যুগ্ম আহ্বায়ক এড. শাহেদুল হক সোহেল মজুমদার, যুবদলের সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুদ কবির, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জিঃ এবিএম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন মিয়াজি, মোশারেফ হোসেন টুটুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান বাবলু, শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন দুলাল, ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, তাফাজ্জল হোসেন, মহিলা দলের নেত্রী রৌশন আক্তার প্রমুখ।
ওইদিন পশ্চিম সূচীপাড়া সপ্রাবি মাঠ, দৈকামতা ফেয়ারা বেগম বিদ্যাশ্রম মাঠ, সুচীপাড়া দিঘির পাড়, বসুপাড়া সপ্রাবি মাঠ, ধামরা সরকারি সপ্রাবি মাঠ ও শোরশাক মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের বিজয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’