শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অনুসন্ধানী ও মানবিক সাংবাদিকতায় সংবর্ধনা পেলেন সাংবাদিক বাবলু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৪১ পিএম
অনুসন্ধানী ও মানবিক সাংবাদিকতায় সংবর্ধনা পেলেন সাংবাদিক বাবলু

ইন্ডিপেনন্ডেন্ট টেলিভিশনের চাঁদপুর প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান বাবলুকে অনুসন্ধানী ও মানবিক প্রতিবেদন করায় সংবর্ধনা দিয়েছে সাপ্তাহিক মানবসমাজ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সাপ্তাহিক মানবসমাজ পত্রিকার আয়োজনে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ‘নামের ভুলে একমাস ধরে কারাবাস’ ও ‘মাদ্রাসার প্রভাষক বিদেশে থেকেও তিন বছর ধরে ভোগ করছেন বেতনভাতা’ – দুটি প্রতিবেদন ইন্ডিপেনন্ডেন্ট টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ায় সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ দেয়া হয়।

এ সময় মানবসমাজ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মো. জাকির মজুমদারের সভাপতিত্ব ও পত্রিকার উপদেষ্টা খাজা সাফিউল বাসার রুজমনের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন, হাজীগঞ্জ থানার সদ্য বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন ফারুক।

Model Hospital

ওই সময় তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জাতির দর্পন। সমাজ ও জাতির উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে সাংবাদিকরা। তারা সমাজের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে। যেই প্রতিবেদনের জন্য এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তা মনিরুজ্জামান বাবলুর প্রাপ্য। এমন সাংবাদিকতাই জাতি আশা করে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, মানবসমাজ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক মো. জাকির মজুমদার।

তিনি বলেন, ভালো কাজের জন্য প্রাপ্য সম্মান দিলে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এই প্রতিবেদনটির জন্য একজন নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ মুক্তি পেয়েছে। এমন সাংবাদিকতা সকলের কাছে কাম্য। এমন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য শুধু মনিরুজ্জামান বাবলু নয় যেই করবে তাকেই মানবসমাজ পত্রিকার পক্ষ থেকে সম্মান করা হবে।

সংবাদ ও প্রতিবেদকের প্রশংসা করে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম বলেন, মনিরুজ্জামান বাবলু ঝুঁকি নিয়ে যেই প্রতিবেদনটি করেছে তা প্রশংসার দাবিদার। আমরা গর্ব করে বলতে পারি হাজীগঞ্জের সন্তান মনিরুজ্জামান বাবলু সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলে যে অসংগতি তুলে ধরেছে তা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষনীয় এবং স্বরণীয়।

মনিরুজ্জামান বাবলুর প্রশংসা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদার বলেন, মনিরুজ্জামান বাবলু একজন প্রতিভাবান সাংবাদিক। মফস্বল থেকে কারোর হুমকি ধমকি পরোয়া না এভাবে সাংবাদিকতা করা যায় তা তিনি দেখিয়েছেন। কর্মময় জীবনে তিনি আরো ভালো অবস্থানে যাবে এটাই কামনা।

ভালো কাজে পাশে থেকে প্রতিবেদককে শক্তি যোগানো সহকর্মীদের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতেও এমন ভালো কাজে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের সম্মান করার আহবান প্রিয় চাঁদপুরের সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিফাতের।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনূভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাংবাদিক মনিরুজ্জামান বাবলু। সংবর্ধনা প্রদান করার মানবসমাজ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই সংবাদ তৈরিতে যে ঝুঁকি ও বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন এবং তা মোকাবিলা করে কিভাবে এগিয়ে গেলেন তা তুলে ধরেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ত্রীনদি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মহিউদ্দিন আল আজাদ, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মিরাজ মুন্সী, পপুলার বিডিনিউজ-এর সহ-সম্পাদক ইমাম হোসেন হিরা, মানবসমাজ পত্রিকার সহ-সম্পাদক ইব্রাহীম খান রনি।

অনুষ্ঠানে ওই সময় হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান সর্দার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী নাছির, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম নয়ন, সদস্য শাখাওয়াত হোসেন শামীম, পপুলার বিডিনিউজ-এর সহ-সম্পাদক রোটা. জয়দেব পাল, পপুলার বিডিনিউজ-এর বার্তা সম্পাদক মো. হোসেন বেপারী, মানবসমাজ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি মাঈনুদ্দিন মিয়াজি, আমার বার্তা পত্রিকার হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বুলবুল, প্রিয় চাঁদপুর-এর নিজস্ব প্রতিনিধি মেহেদী হাসান রিমেল, পপুলার বিডিনিউজ-এর স্টাফ রিপোর্টার মো. ইউসুফ বেপারী সহ বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’