শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-৩ আসনে কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত কমরেড জাহাঙ্গীর হোসেনের মনোনয়নপত্র দাখিল

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৩ পিএম
চাঁদপুর-৩ আসনে কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত কমরেড জাহাঙ্গীর হোসেনের মনোনয়নপত্র দাখিল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর)- আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃত্বে নতুনভাবে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড মো: জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের কাছে তাঁর কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বাসদ সমন্বয়ক কমরেড দীপালি রানী দাস, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য কমরেড চন্দ্র শেখর মজুমদার ও জেলা কমিটির সদস্য ডা: শ্যামল চন্দ্র ঘোষ, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা সুনীল কৃষ্ণ মাঝি, কৃষক নেতা তাপস কুমার সাহা ও সুমন কৃষ্ণ মাঝি, জেলা যুব ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক কমল চন্দ্র দাস ও শহর যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম নূর।

মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কাস্তে মার্কার প্রার্থী কমরেড মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করা প্রয়োজন। মানুষ যাতে ভয়হীনভাবে ভোট দিতে পারে-সেই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

Model Hospital

এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি পথরেখা রচনা করতে বামপন্হী প্রার্থীদেরকে ভোট দেয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে। অন্যথায় ৭১’র এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ম্লান হবে। ফলে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও বিজ্ঞানবিরোধী প্রতিকূল সমাজ দেখতে হবে। যা হবে নিতান্তই দু:খজনক।

তিনি আরও বলেন, মানুষের মুক্তির পথ সমাজতন্ত্র। তাই শোষণমুক্ত সমাজ গঠন একান্তই প্রয়োজন। দেশের টেকসই অর্থনীতি বিনির্মার্ণের জন্য কৃষিভিত্তিক কল-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। এতে করে কর্মহীনদের কাজের ব্যবস্হা হবে। এসব বাস্তবায়নের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’