শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পৌষের তীব্র শীতে অসহায়দের পাশে উপজেলা প্রশাসন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২৪ পিএম
শাহরাস্তিতে পৌষের তীব্র শীতে অসহায়দের পাশে উপজেলা প্রশাসন
শাহরাস্তিতে পৌষের তীব্র শীতপ্রবাহে অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে শাহরাস্তি উপজেলার মাঁলরা আশ্রয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন গরিব, দুস্থ, ছিন্নমূল ও এতিমখানা এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়।
উপজেলার মাঁলরা আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন এলাকায় সরাসরি উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন।
এ সময় তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসমূহ পরিদর্শন করেন এবং শীতার্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা।
এ সময় ইউএনও নাজিয়া হোসেন বলেন, তীব্র শীতপ্রবাহে যেন কোনো অসহায় মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসন মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার শীতার্ত মানুষদের চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তিনি আরও বলেন,মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরকারের এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শীতের এই সময়ে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা উচিত।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা বলেন,সরকারের নির্দেশনায় প্রকৃত শীতার্তদের তালিকা প্রস্তুত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে উপকারভোগীরা জানান, শীতের এই কনকনে সময়ে একটি কম্বল তাদের জন্য বড় সহায়তা। শীতপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় এমন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, উপজেলার সকল আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগী, গরিব, দুস্থ ও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলমান রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’