শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবের ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ৫ শিক্ষককে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
মতলবের ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ৫ শিক্ষককে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত পাঁচ শিক্ষককে বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা দিল বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিদায়ী মানপত্র পাঠ করেন, অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহিম মিজি। অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত বিদায়ী শিক্ষকদের ব্যাচ ও ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। এর আগে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালমান হোসেন রাসেল এর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় দীর্ঘ কর্মজীবনের সুখ নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মৃতিচারণ করেন বিদায়ী শিক্ষক আবুল কালাম বকাউল, মোস্তফা কামাল মিয়াজি, শাহ আলম প্রধানীয়া, আবুল হোসেন মুন্সি ও আব্দুল হাই বকাউল এর ছেলে জুয়েল বকাউল।
এসময় বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য নজরুল ইসলাম বালী, মনির হোসেন বকাউল, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র শিক্ষক রাধা গোবিন্দ, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম মিজি, জহিরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম পাটওয়ারী, মিনহাজ হোসেন, ডা. বিজয় সরকার, ইয়াছিন মাল, ইকবাল হোসেন দীপু, ইব্রাহিম মিজি, জহিরুল ইসলাম হানিফ প্রমূখ। এসময় বক্তারা বলেন, যেকোনো বিদায় বেদনার ও কষ্টের। বিদায়ী শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে এ বিদ্যালয় শুন্যতা অনুভব করবে। সবকিছুরই শেষ আছে, না চাইলেও একদিন ঠিকই বিদায় বলতে হয়। আমরা ওনাদের অবসর জীবনের মঙ্গল কামনা করি। তারা আরো বলেন, আমাদের এই শিক্ষকরা তাদের কর্মজীবনে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন, সত্যিকারের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। তারা দেশের কল্যাণে অনেক বড় বড় জায়গা থেকে ভূমিকা রাখছেন। শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজের কাজের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আজীবন।
পাঁচ শিক্ষকের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তির বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের সহকর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির সদস্য মনির হেসেন বকাউল, জহিরুল ইসলাম, মুরাদ হোসেন বকাউল, আব্দুর রহিম মিজি, মাসুদ বকাউল, নজরুল ইসলাম বকাউল, শাহাদাত হোসেন, হুমায়ূন কবির, ইকবাল হোসেন দিপু, কাউছার বকাউল সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ। প্রিয় শিক্ষককে অশ্রুসজল নয়নে বিদায় দেন তারা। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের। পরে ফুল সজ্জিত গাড়িতে করে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন আয়োজক কমিটি। অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজক কমিটি ও বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদায়ী শিক্ষকদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট, উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’