বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সুনামগঞ্জে শ্রেষ্ট ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক

রাজু আহমেদ রমজান, সুনামগঞ্জ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
সুনামগঞ্জে শ্রেষ্ট ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক
কর্মতৎপরতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনসেবা প্রদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘অফিসার অব দ্যা মান্থ (ডিসেম্বর ২০২৫ ইং) নির্বাচিত হয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক। রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তার এর পরিচালনায় প্রাণবন্ত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ সহ জেলা প্রশাশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। পাহাড়ি নদী যাদুকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্যের রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জীববৈচিত্র্যের অফুরন্ত সম্ভার এই জনপদে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ ধরা, বালু উত্তোলন, বন ও জলাভূমি দখল প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই পরিস্থিতিতে বদলে যাচ্ছে চিত্র।
যোগদানের পর থেকেই তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একাধিকবার দুর্ঘটনার কবলেও পড়েন। তাঁর পদক্ষেপে অবৈধ দখল ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে এসেছে আর এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মনে।
অন্যদিকে, প্রতিবছর লাখো পাখির আগমন ঘটে বিশ্ব ঐতিহ্য রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে। কিন্তু অবৈধ জাল ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার কারণে হুমকির মুখে পড়েছিল এ হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ। ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক এর নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় বন্ধ হচ্ছে এসব অনিয়ম। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাওরাঞ্চলে মাইকিং প্রচার ধীরে ধীরে ফিরছে জীববৈচিত্র্যের প্রাণচাঞ্চল্য।
অপরদিকে, তাহিরপুর সীমান্তের যাদুকাটা নদীসহ সীমান্তের বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ছড়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের শিকার। এতে নদীর প্রবাহ ও স্থানীয় পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছিল। ইউএনও মানিকের কঠোর পদক্ষেপে এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এই চক্র। অতীতে দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তাকে নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক ভিন্ন এক সরকারি কর্মকর্তা।
আদর্শিক এই ইউএনও পুরস্কার পেলেও বিনম্র। তিনি বলেন-“আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, দায়িত্বটুকুই পালন করছি। হাওর এলাকার মৎস্যসম্পদ রক্ষা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ক্ষেত্রে সচেতন উপজেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। পুরস্কার বিষয়ে তিনি বলেন- মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় একজন সুদক্ষ-চৌকস। এমন সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। এ পুরস্কার তাহিরপুর উপজেলাবাসীর।
‘তাহিরপুরের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইউএনওর নেওয়া উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রকৃতির সজীবতা ফিরে পাবে পুরো তাহিরপুর উপজেলা, আর এটি হবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সফল উদাহরণ।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।