শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া বরইগাঁও একতা সংঘ ও পাঠাগার পরিদর্শন করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
কচুয়া বরইগাঁও একতা সংঘ ও পাঠাগার পরিদর্শন করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা

কচুয়ায় বরইগাঁও একতা সংঘ ও পাঠাগার পরিদর্শন করেছেন,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম।

কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের বরইগাঁও একতা সংঘ ও পাঠাগার পরিদর্শন করেছেন,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম।

বুধবার বিকেলে পাঠাগার পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী,পাঠাগার পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সাথে আলোচনা করেন। পাঠাগারের সার্বিক কার্যক্রম দেখে তিনি সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।

এসময় কচুয়া উপজেলার সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন,বরইগাঁও একতা সংঘ ও পাঠাগারের সাংগঠনিক সম্পাদক নেছার আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ও পাঠাগারের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে,পাঠাগারটি পরিচালিত হচ্ছে উপজেলার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ, এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও পড়ুয়া একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানে।

Model Hospital

এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে ও সুশিক্ষিত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এ পাঠাগারটি মূলত প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নে কর্মকান্ডে একতা সংঘ ও পাঠাগারের অনেক সুনাম অর্জন রয়েছে।

‘পাঠাগারের সভাপতি কাজী মোঃ আনোয়ার উল্লাহ বলেন, একটি ভালো পাঠাগারের দ্বারা একটি সমাজ আলোকিত হতে পারে। এমন পাঠাগার দেশের প্রতিটি প্রান্তে গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনের নেশা দূর হয়ে জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বই পড়ার পাশাপাশি পাঠাগার থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা এবং নানামুখী সৃজনশীল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

এই পাঠাগারের মাধ্যমে সমাজ আলোকিত করতে চাই।
এছাড়া, পাঠাগারটিতে প্রতিদিন একটি দৈনিক পত্রিকা ও বিভিন্ন ধরনের মাসিক ম্যাগাজিন রাখা হয়।

পাশাপাশি, জ্ঞান চর্চার জন্যে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বই নিয়ে অধ্যয়ন করারও সুযোগ রয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে সার্বক্ষণিক পাঠাগারটিতে রয়েছে একজন স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’