শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর বিষ্ণুপুরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১০ দলীয় জোটের গণসংযোগ

জনগণের রায়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক পথ নির্ধারিত : দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শাহজাহান মিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
জনগণের রায়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক পথ নির্ধারিত : দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শাহজাহান মিয়া

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর–হাইমচর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও সাবেক ভাইস চেয়ার‌ম্যান অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া পথসভা ও গণসংযোগ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ করেন প্রার্থী ও বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন চাওয়া হয়।

দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এডভোকেট শাহজাহান মিয়া বলেন, গত ১৭ বছর আপনারা ভোট দিতে পারেননি। দিনের ভোট রাতে হয়ে গেছে, জনগণের মতামতের কোনো মূল্যায়ন হয়নি। এবার আল্লাহ তায়ালার রহমতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক মুহাম্মদ নোয়াইম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর যুগ্ম সদস্য সচিব তামিম খান, জাতীয় ছাত্র শক্তির চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক সাগর হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর শহর শাখার সহকারী সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ খানসহ ১০ দলীয় জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Model Hospital

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ১ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রধানিয়া, ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি কাজী মো. আবু তাহের, সেক্রেটারি মো. আল আমিন আখন্দ, সহকারী সেক্রেটারি মো. আফজাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মো. সুরুজ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জুবায়ের হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি আবুল কাশেম হাওলাদার এবং সাংবাদিক এ এম ইদ্রিস খানসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বৈঠকে স্থানীয় নারী-পুরুষ ভোটার, মুরব্বি ও তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

তিনি আরো বলেন, দেশে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। জনগণের রায়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক পথ নির্ধারিত হয়। ভোটারদের উদ্দেশে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, “আপনার একটি ভোট শুধু একজন প্রার্থী নয়, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পক্ষে যাবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’