শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

টেনশনে ঘুম হয় না, তবুও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবো: হাজীগঞ্জে এসপি রবিউল হাসান

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
টেনশনে ঘুম হয় না, তবুও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবো: হাজীগঞ্জে এসপি রবিউল হাসান

হাজীগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান।

আপনাদের এখানে দায়িত্ব পালনে আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। অনেক সময় টেনশনে ঘুমও হয় না। পিবিআই বা সিআইডিতে থাকলে হয়তো শান্তিতে দায়িত্ব পালন করা যেত।

শনিবার রাত ৮টায় হাজীগঞ্জ স্টার হোটেল সংলগ্ন এলাকায় হাজীগঞ্জ থানা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান এমন মন্তব্য করেছেন।

অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে পুলিশ পরিদর্শক রাজিব শর্মার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ) সার্কেল মুকুর চাকমা এবং ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টি.আই) রাজ্জাকুল হায়দার। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, চাঁদপুর-৫ আসনের প্রার্থীদের প্রতিনিধি, বাজার ব্যবসায়ী, সাধারণ ভোটার, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশ নেন।

হাজীগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান।

মতবিনিময় সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন, যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, এবং ভোটের দিন সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উপস্থিতরা পুলিশ সুপারের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সবার উদ্বেগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

Model Hospital

ভোটারদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার রবিউল হাসান বলেন, “আমরা ডানে-বামে নেই, আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে আছি। আমরা লটারির মাধ্যমে এই জেলায় দায়িত্ব পেয়েছি। আপনাদের ওসি সাহেব শরিয়তপুর থেকে এসেছেন, আমি গাজীপুর থেকে। আপনাদের এখানে দায়িত্ব পালনে আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। অনেক সময় টেনশনে ঘুমও হয় না। পিবিআই বা সিআইডিতে থাকলে হয়তো শান্তিতে দায়িত্ব পালন করা যেত। কিন্তু এখানে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি নির্বাচনকে শতভাগ নিরপেক্ষ রাখতে। কেউ কোনো অসদুপায় অবলম্বন করার চেষ্টা করলে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, ভয়ভীতি বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী, ভোটার ও সাংবাদিকরা পুলিশের এ ধরনের উন্মুক্ত মতবিনিময় সভাকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নির্বাচনের আগে এ ধরনের সভা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভা শেষে পুলিশ সুপার উপস্থিত সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’