শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

১০ম গ্রেডে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সুযোগ দেয়ার প্রতিবাদে

চাঁদপুর পলিটেকনিকে পরীক্ষা বর্জন ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৩ এম
চাঁদপুর পলিটেকনিকে পরীক্ষা বর্জন ও বিক্ষোভ

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলের একাংশ।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। এই বিতর্কিত প্রস্তাবের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিতব্য সকল প্রকার একাডেমিক পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম অনুযায়ী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষিত। সম্প্রতি এই পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাবনা আসার পর থেকেই দেশজুড়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থানের পথ সংকীর্ণ হবে এবং কারিগরি শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। ওইদিন সকালে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা “কারিগরি ছাত্র আন্দোলন”-এর ব্যানারে একত্রিত হয়ে পরীক্ষা বর্জন করে মিছিল বের করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ছাত্র নেতা ও চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো: মাহবুব এ এলাহী।

এ সময় শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে “উই ওয়ান্ট জাস্টিস, অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মানি না, মানবো না এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকার ফিরিয় দাও” এমন নানা স্লোগান শোনা যায়।

Model Hospital

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মো: মাহবুব এ এলাহী বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিশেষায়িত। এখানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং আমাদের পেশাগত অস্তিত্বের ওপর আঘাত। যতক্ষণ পর্যন্ত এই গণবিরোধী প্রস্তাব বাতিল না হবে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। অধিকার আদায়ে আমরা কোনো পরীক্ষা বা ক্লাসে অংশ নেব না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, কারিগরি শিক্ষাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা অনতিবিলম্বে এই প্রস্তাব বাতিল করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য এই পদের পূর্ণ নিশ্চয়তা দাবি করেন।

উল্লেখ্য যে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের কারণে আজ প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’