শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চিংড়ি প্রতীকের পথসভায়

আমাকে একবারের জন্য চিংড়ি প্রতীকে ভোট দিন : এম এ হান্নান

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৪ পিএম
আমাকে একবারের জন্য চিংড়ি প্রতীকে ভোট দিন : এম এ হান্নান

গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী ৯ টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী পথসভায় ও উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এমএ হান্নান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের আলহাজ্ব এম এ হান্নান গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিক পথসভা ও উঠান বৈঠক করেছেন।
পথসভায় তিনি উপস্থিত সকলের কাছে অনুরোধ করে বলেন, “আমাকে একবারের জন্য চিংড়ি প্রতীকে ভোট দিন। আমি আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকতে চাই। অতীতে দলমত নির্বিশেষে এ এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি, আগামীতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।”
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন তিনি নিজ সমর্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পূর্ব গোবিন্দপুরে ইউপি সদস্য আব্দুর রহমানের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক ও পথসভা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান, তাজুল ইসলাম খান, ফজলে রাব্বী, শাহবুদ্দিন ছৈয়াল, রশিদ ছৈয়াল, জামাল গাজীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এরপর দক্ষিণ চররাঘবরায় নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠে এলাকাবাসীর উদ্যোগে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম এ হান্নান।
আলমগীর হোসেন পাটওয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সফিউল আলম মুকুল পাটওয়ারী, বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান মফু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আমানত গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ফারুক হোসেন এবং মাদ্রাসার পরিচালক জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী।
দিনের শেষভাগে মধ্য হাসা এলাকায় আমান উদ্দিন পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের পাশে আরও একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মিলন গাজী, সালাউদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম ও মনির পাটওয়ারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এসময় স্থানীয় সকল নেতাকর্মীরা ১২ ফেব্রুয়ারি সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চিংড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে দৃড় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’