শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ‘বড়স্টেশন কমিউনিটি’র রিকশা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
চাঁদপুরে অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ‘বড়স্টেশন কমিউনিটি’র রিকশা বিতরণ
চাঁদপুরে বড়স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে অসচ্ছল-অসহায় পরিবারকে কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় রিক্সা বিতরণ করা হয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে শহরের বড়স্টেশন রেলওয়ে দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই আয়োজন করা হয়। মানবিক এই অনুষ্ঠানে সৎ থাকা এবং নামাজ পড়ার শর্তে দুজন অসচ্ছল ব্যক্তিকে মোটরচালিত ২টি রিক্সা উপহার দেয়া হয়।

বড়স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উপদেষ্টা ফয়সাল আহমেদ বাহার বলেন, এই সংগঠনটি বহু বছর ধরে এই চাঁদপুরে অসহায় ও অসচ্ছল মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এরমধ্যে বিভিন্ন দুর্যোগে কিংবা উৎসবে খাদ্য সহায়তা, অসহায় মানুষদের ঘর করে দেওয়া, অসচ্ছল মানুষদের চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা দেওয়া সহ নানাবিধ সামাজিক কার্যক্রম করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকের সংগঠনের পক্ষ থেকে দুজন অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করেতে দুটি রিক্সা উপহার দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুটি পরিবারের জীবন-জীবিকার উপলক্ষ তৈরি হলো। আমি এই মানবিক কাজের জন্য বড় স্টেশন কমিউনিটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি যারা বিভিন্নভাবে এই সংগঠনের সামাজিক কাজে সহযোগিতা করছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বড়স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রাসেল পারভেজ বলেন, আজকে আমরা যে দুজনকে রিক্সা উপহার দিয়েছি তাদের মধ্যে একজন বিধবা মা রয়েছেন। যারা এই উপহার পেয়েছেন তাদের দুটি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এক তাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে এবং দুই হলো তারা রিক্সা বিক্রি করতে পারবেনা। এই মানবিক কাজে যিনি সহযোগিতা করেছেন, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

Model Hospital

এসময় বড়স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উপদেষ্টা দ্বীন মোহাম্মদ জিল্লু, মোস্তফা মাল, গোফরান হোসেন, হোসেন চোকদার, প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আমিনুল ইসলাম, কবির হোসাইন, কার্যকরী সদস্য রিপন মাল, নূর হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’