শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল

শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সুশৃঙ্খল আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয় : ইউএনও নাজিয়া হোসেন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সুশৃঙ্খল আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয় : ইউএনও নাজিয়া হোসেন
শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের আয়োজনে বার্ষিক ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ২১ রমজান পৌরসভাধীন রিভারভিউ কফি পার্ক রেস্টুরেন্টে এ ইফতার, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান ভুইঁয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা হলেও তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কারণ গঠনমূলক সমালোচনা প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে সহায়তা করে। আমি শাহরাস্তিতে যোগদানের পর থেকেই সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিক সহযোগিতা করে আসছেন। তাদের এই সহযোগিতার ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
শাহরাস্তি প্রেসক্লাব আজ যে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আন্তরিক পরিবেশে ইফতার ও দোয়ার আয়োজন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান।এ সময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সাবেক  সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক  সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলী,সাবেক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, সাবেক সভাপতি সাইফুল করিম মিনার, পৌর বিএনপির  যুগ্ম আহবায়ক জাকিরুল ইসলাম খান জুনু, পৌর যুবদল আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা, আদনান নোমান, ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়দুল কবির বাহাদুর,বিএনপি নেতা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুবায়ের আল নাহিয়ান রাজু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আবুল বাসার পাটোয়ারী, কার্যকরী সদস্য মাহবুব হাসান সুমন, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন,  কার্যকরী সদস্য ও সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম, কার্যকরী সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুদ রানা এবং সহ-সম্পাদক মো. রুহুল আমিন তরুণ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান শান্ত, দপ্তর সম্পাদক মো. নুরে আলম, প্রচার সম্পাদক ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা, সদস্য রাফিউ হাসান হামজা, মো. শাহ আলম, ফরিদ পাটোয়ারী, গিয়াস উদ্দিন, শামীম আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়সহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে অসুস্থ সাংবাদিক, প্রয়াত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’