কচুয়ায় তেগুরিয়া বিলে পানি সেচ পাম্পে চুরি: বন্ধ ৭৫ একর জমির সেচ
পানি সেচ পাম্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, ক্যাপাসিটার, স্টাটার ও মেইন সুইচ চুরির দৃশ্য।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বুধুন্ডা গ্রামের তেগুরিয়া বিল যেখানে ৭৫ একর জমিতে প্রায় ২০০ কৃষকের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে সোনালি ফসলের সাথে। কিন্তু হঠাৎ এক চুরির ঘটনায় সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে অন্ধকার।

মিলন হোসেন এর মালিকানাধীন একটি পানি সেচ পাম্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, ক্যাপাসিটার, স্টাটার ও মেইন সুইচ চুরি হয়ে যায় । এতে করে পুরো সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষকদের উৎপাদনে।

পাম্পটির দেখাশোনা করেন শ্রমিক মকবুল হোসেন। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত তিনি পাম্পে অবস্থান করেন। এরপর বাড়িতে চলে গেলে সকালে এসে দেখেন পাম্পের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলো চুরি হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে এই পাম্পের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা দিয়ে আসছি। হঠাৎ এই চুরির ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং পুরো সেচ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।”

এদিকে স্থানীয়দের মতে, বুধুন্ডা-তেগুরিয়া সংযোগ সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। রাত ৮টার পরও অনেকের যাতায়াত থাকে। তাই পরিকল্পিতভাবেই এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মোঃ কবির হোসেন, জাহাঙ্গীর হাজী, আলম বকাল ও মনতাজ তালুকদার জানান, “এই মাঠের সেচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রুত পাম্প চালু না হলে জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চুরির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সেচ ব্যবস্থা দ্রুত চালুর জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে একটি পাম্পের ওপর নির্ভরশীল শতাধিক কৃষক এখন দিশেহারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








