শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় তেগুরিয়া বিলে পানি সেচ পাম্পে চুরি: বন্ধ ৭৫ একর জমির সেচ

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
কচুয়ায় তেগুরিয়া বিলে পানি সেচ পাম্পে চুরি: বন্ধ ৭৫ একর জমির সেচ

পানি সেচ পাম্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, ক্যাপাসিটার, স্টাটার ও মেইন সুইচ চুরির দৃশ্য।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বুধুন্ডা গ্রামের তেগুরিয়া বিল যেখানে ৭৫ একর জমিতে প্রায় ২০০ কৃষকের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে সোনালি ফসলের সাথে। কিন্তু হঠাৎ এক চুরির ঘটনায় সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে অন্ধকার।

মিলন হোসেন এর মালিকানাধীন একটি পানি সেচ পাম্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, ক্যাপাসিটার, স্টাটার ও মেইন সুইচ চুরি হয়ে যায় । এতে করে পুরো সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষকদের উৎপাদনে।

পাম্পটির দেখাশোনা করেন শ্রমিক মকবুল হোসেন। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত তিনি পাম্পে অবস্থান করেন। এরপর বাড়িতে চলে গেলে সকালে এসে দেখেন পাম্পের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলো চুরি হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে এই পাম্পের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা দিয়ে আসছি। হঠাৎ এই চুরির ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং পুরো সেচ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।”

Model Hospital

এদিকে স্থানীয়দের মতে, বুধুন্ডা-তেগুরিয়া সংযোগ সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। রাত ৮টার পরও অনেকের যাতায়াত থাকে। তাই পরিকল্পিতভাবেই এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মোঃ কবির হোসেন, জাহাঙ্গীর হাজী, আলম বকাল ও মনতাজ তালুকদার জানান, “এই মাঠের সেচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রুত পাম্প চালু না হলে জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “চুরির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সেচ ব্যবস্থা দ্রুত চালুর জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে একটি পাম্পের ওপর নির্ভরশীল শতাধিক কৃষক এখন দিশেহারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ৬ষ্ঠ বই উপহার মাস-২০২৬, বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি সংবর্ধনা পাচ্ছেন ৩ জন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১০ পিএম
চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ৬ষ্ঠ বই উপহার মাস-২০২৬, বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি সংবর্ধনা পাচ্ছেন ৩ জন

ছড়িয়ে দিতে বই, পথের মানুষ হই-স্লোগানে অক্টোবর মাসকে ৬ষ্ঠ বই উপহার মাস ঘোষণা করেছে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপর মাসজুড়ে চলে বই উপহার কর্মসূচি। পথেঘাটে, অফিস-আদালতে, স্কুল-কলেজে, এমনকি যানবাহনেও উপহার দেওয়া হয় বই। এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

প্রতিদিন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের হাতে বই উপহার তুলে দেয় একাডেমির সদস্যরা। গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, শিশুতোষ প্রায় ১ হাজার বই বিনামূল্যে পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রতিষ্ঠানটি। মাদক ও বাল্যবিবাহ রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এমন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান, বই উপহার মাসের আহ্বায়ক ও চর্যাপদ একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি।

তিনি আরও জানান, কর্মসূচিতে একাডেমির সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে দিক নিদের্শনা মেনে নানা প্রান্তে ছুটে গিয়ে বই উপহার দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কর্মসূচির প্রচার-প্রচারণা, অধিক দিবস কর্মসূচি পালন ও সর্বোচ্চ সংখ্যক বই উপহার দিয়ে ‘বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি-২০২৬’ চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন ৩ জন। সার্বিকভাবে সেরা হয়েছেন একাডেমির সহযোগী পরিচালক জয়ন্তী ভৌমিক, পয়েন্ট সমান থাকায় যৌথভাবে একাডেমির বিজ্ঞান ও আইসিটি পরিচালক রাসেল ইব্রাহীম ও নির্বাহী সদস্য কামরুন্নাহার বিউটিকেও শ্রেষ্ঠ সারথি ঘোষণা করা হয়। জয়ন্তী ভৌমিক এর আগে টানা চারবার এ পুরস্কার অর্জন করেন।

চর্যাপদ একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপা জানান, প্রতিদিন দূরদূরান্তে ছুটে গিয়ে বই উপহার দিয়ে এসেছেন আমাদের সারথিরা। এতে প্রচুর কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। এমন কঠিনতম কর্মসূচিতে যে যে সদস্য অধিক পরিমাণে শ্রম দিয়েছেন অর্থাৎ যাদের অবদান তুলনামূলকভাবে একটু বেশি, তাদের জন্যে প্রতি বছর ‘বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি’ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

Model Hospital

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বই উপহার কর্মসূচি পালন করে আসছে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। ২০২১ সাল থেকে টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো বই উপহার মাস পালন করছে এই প্রতিষ্ঠান। এর আগে একটি ‘বই উপহার মেলা’ও করেছে। এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের অধিক বই উপহার দিয়েছে চর্যাপদ একাডেমি। এ আয়োজনের সহযোগিতায় ছিলো ফোকাস মোহনা.কম ও প্যাপিরাস পাঠাগার।