শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপনের লক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম
চাঁদপুরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপনের লক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা”, “১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান বিষয় সেমিনার ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬” উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান,  প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা”, “১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান বিষয় সেমিনার ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬” উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের পক্ষে  সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার।
তিনি বলেন, চাদপুর স্টেডিয়ামস্থ ড্যাফোডিল কলেজে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮, ১৯ ও ২০এপ্রিল তিন দিনব্যাপী চাঁদপুরে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চাঁদপুর জেলার ৭২টি টীম উক্ত বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহনের আশা করা যাচ্ছে।বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে সকলে সহযোগিতা করবেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
তিনি বলেন, চাঁদপুরের বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিবেন বলে আশ্বস্ত করেন এবং সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করবেন জানান।
সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো: আলমগীর বাহার,কৃষি সম্প্রসারন অধিদপত্রের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) রাজীব, চাঁদপৃর সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মো: মমিনুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারি পরিদর্শক মোহাম্মদ আজিজুল হক, সদর সার্কেল অফিসের ইন্সপেক্টর নিরস্থ রাজীব চক্রবর্তী, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উবির সিনিয়র শিক্ষক আবুল কাসেম, হাসান আলী সরকারি উবিির সহকারি শিক্ষক মো: কাউছার, ড্যাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক সৌমিত্র কান্তি দাস, শহীদ জাবেদ স্কুল এন্ড কলেজের মো: ইব্রাহিম, চাঁদপুর বজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব এর অ্যাডভোকেট শাহজাহান, লেখক ও বিজ্ঞান সংগঠক এইচ এম জাকির,  চাঁদপুর গভ: টেকনিক্যাল হাইস্কুলের মো: মাসুদ আলম, ডিএন হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষক শাহআলম মিয়া, বিষ্ণুদী ইসলামীয়া ফাযিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মো: নোমান হোসেন, মহিলা বিষয়া অধিদপ্তরের ফিল্ড সুপারভাইজার মো: মোস্তাফিজুর রহমান, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
সভায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান প্রযুক্তি সপ্তাহ বহুল প্রচারের জন্য চাঁদপুর প্রেসক্লাব ও জেলা তথ্য অফিসের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’