শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

বাংলা ভাষার পাশাপাশি বিদেশী ভাষাও শিখতে হবে : জেলা পরিষদ প্রশাসক সলিম উল্লাহ সেলিম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
বাংলা ভাষার পাশাপাশি বিদেশী ভাষাও শিখতে হবে : জেলা পরিষদ প্রশাসক সলিম উল্লাহ সেলিম

চাঁদপুর বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্লাহ সেলিম।

বৃক্ষরোপণ, বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টায় কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের অনুপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্লাহ সেলিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,আমি নিজেকে প্রধান অতিথি মনে করি না। আজ যারা কুচকাওয়াজ ও প্যারেডে অংশ নিয়েছে, তাদের কাতারে থাকতে পারলে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো। তিনি আরও বলেন, বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ—এর সুনাম ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি, মাননীয় প্রধানমন্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলা ভাষার পাশাপাশি অন্তত আরও একটি বিদেশী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। এতে করে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ গড়ার প্রত্যয় তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
এসময় তিনি চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরে তিনি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী এবং চাঁদপুর  জেলা জজকোর্টের (পিপি) কোহিনুর বেগম।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন,বাবুরহাট কলেজ এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চাঁদপুর-৩  আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এর নেতৃত্বে চাঁদপুরের উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে যাবে।এ কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করা হবে। আমরা চাই শিক্ষাথীরা ভালোভাবে লেখাপড়া করে এদেশ গড়বে।ভালো মানুষ হবে।এ প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি উদ্ধারে সহযোগিতা করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যেকোনো প্রয়োজনে চাঁদপুর প্রেসক্লাব সবসময় পাশে থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ রাসেল, ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মহসিন হোসেন মজুমদার লিটন, ১৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ফরহাদ মালসহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি নাজমুন নাহার এর পরিবর্তে বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন।
পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাহবুব আলম এবং গীতা পাঠ করেন ত্রিনয়না দেবনাথ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং কলেজ মাঠে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা উপস্থিত সবার মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
সবশেষে, বিজয়ী প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ আগত অতিথিবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’