শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তর ইচলীতে জুমা মসজিদ উদ্বোধন করলেন গাছতলার পীর খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
উত্তর ইচলীতে জুমা মসজিদ উদ্বোধন করলেন গাছতলার পীর খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর ইচলী গ্রামের আহম্মদ গাজী বাড়ি সংলগ্ন একটি জুমা মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে।

মসজিদ-ই ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.) নামে এ মসজিদটি গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয়।

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী গাছতলা দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর সাহেব আল্লামা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী জুমার খুতবা এবং নামাজে ইমামতির মাধ্যমে এই জুমা মসজিদ উদ্বোধন করেন। তিনি খুতবার আগে পবিত্র কোরআন এবং হাদীসে মোবারাকার আলোকে জুমার ফজিলত, মর্যাদা এবং গুরুত্ব মুসল্লিদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর জ্ঞান গর্ব আলোচনায় মুসল্লিরা মুগ্ধ হন, বিমোহিত হন।

নামাজ শেষে মিলাদ কিয়াম ও দোয়া মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন কমিটির সভাপতি ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল কাদির গাজী।

Model Hospital

মিলাদ কিয়াম পরিচালনা করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরজাদা মাওলানা খাজা জোবায়ের। মুনাজাত পরিচালনা করেন গাছতলা দরবারের পীর সাহেব। মুনাজাত শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে তবররুক বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, পীর মাওলানা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী এলাকায় জুমার নামাজ পড়াবেন এই সংবাদ শুনে শত শত মুসল্লি উত্তর ইচলী গ্রামের এই নতুন মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে চলে আসেন।

মসজিদ ভরপুর হয়ে মসজিদের আঙ্গিনায় খোলা জায়গায় কয়েক শ’ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

মসজিদ কমিটি এবং এলাকার মুসল্লিরা গাছতলা দরবার শরীফের কুতুবুল আউলিয়া শাহসুফি খাজা আহমাদ শাহ নকশবন্দী মোজাদ্দেদী (র.)’র সুযোগ্য আওলাদ, দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দীনশীন পীর সাহেব খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী হুজুরের ইমামাতির মাধ্যমে মসজিদটি উদ্বোধন করতে পেরে খুবই সন্তুষ্ট। তাঁরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’