শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১০ পিএম
চাঁদপুর জেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা সম্পন্ন

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া কিশোর গ্যাং–সংক্রান্ত ভিডিওটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান।
এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিসি আরও জানান, জাটকা রক্ষা অভিযানে নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। বালু উত্তোলন ও জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে রাজনৈতিক সহায়তারও প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন,আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে চাঁদপুরকে উন্নত ও একটি বাসযোগ্য শহরে রূপ দেওয়া সম্ভব। তিনি যানজট নিরসনে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাটকা রক্ষা অভিযানে কারেন্ট জাল জব্দসহ কঠোর নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতলব উত্তরের বেলতলী লেংটা মেলা যেন অবৈধভাবে পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি জ্বালানি তেল মজুদ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার তদারকিতে চলমান কার্যক্রম আরও জোরদারের কথা উল্লেখ করেন।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান বলেন, আমাদের দেশের মেধার অন্তত ৮০ শতাংশ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজে লাগানো যেত, তাহলে দেশ অনেক আগেই উন্নত অবস্থানে পৌঁছাত। তিনি মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
আসন্ন বৈশাখী মেলা উপলক্ষে কোথাও যেন জুয়ার আসর বা অনৈতিক কার্যকলাপ না হয়, সে বিষয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। জ্বালানি তেল নিয়ে তদারকি অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম সলিম উল্লাহ সেলিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহরের মানুষ যানজটে ভুগছে। এর সমাধানে বিকল্প সড়ক নির্মাণ জরুরি। বিশেষ করে বাগাদী চৌরাস্তা থেকে পুরান বাজার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক এবং পাসপোর্ট অফিস থেকে মিশন রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন,কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, খোলা বাজারে জাটকা বিক্রি এবং বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে মঠখোলা ও মহামায়া বাজার সংলগ্ন এলাকায়  জুয়া খেলার আসর বসানোর প্রস্তুতি  মতো অনিয়ম বন্ধে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এক্ষেত্রে চাঁদপুর প্রেসক্লাব সবধরনের সহযোগিতা করবে।
চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন— চাঁদপুর নৌ পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ইমতিয়াজ, সিভিল সার্জন ডা. নূর আলম দ্বীন, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী,চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাস চন্দ্র রায়, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক মোঃ মাসুদুর রহমান, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল (সদর) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবু তাহের, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ বিল্লাল হোসাইন, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কোহিনুর বেগম, উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুনিরা আক্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, জেলা জমিয়তে ইসলামের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফ ও চাঁদপুর জেলা  বিএনপি সহসভাপতি  খলিলুর রহমান,চাঁদপুর শহর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাজি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড:  শামছুল ইসলাম মন্টু,হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া সুলতানা, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়,পিপি অ্যাড. শিরিন সুলতানা মুক্তা, চাঁদপুর জেল সুপার মোঃ জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি এবং সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ওমর ফারুকসহ সংশ্লিষ্টরা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’