শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে শতবর্ষী মন্দিরে অবৈধ কারখানা উচ্ছেদের দাবি

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
মতলবে শতবর্ষী মন্দিরে অবৈধ কারখানা উচ্ছেদের দাবি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারের শতবর্ষী ‘শ্রী শ্রী কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির’ প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা অবৈধ মিষ্টির কারখানা উচ্ছেদ এবং মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মন্দিরের বর্তমান সভাপতি যুধিষ্ঠি বাড়ৈ স্বাক্ষরিত এই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১৭২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন মন্দিরের ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে, যা বর্তমানে মন্দির ও স্থানীয় ভক্তদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে মন্দিরের সহ-সভাপতি সুধির দেবনাথ বলেন​, মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ বিগত সরকারের আমলে নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপাল দাস ও খগেন্দ্র চক্রবর্তীর মালিকানাধীন দুটি মিষ্টির কারখানা মন্দির চত্বরে স্থাপন করেন।এই কারখানাগুলোর মাধ্যমে মন্দিরের আয় থেকে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে মন্দিরের পরিবেশ ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। কারখানা সচল রাখতে মন্দিরের গেট গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়, যার সুযোগ নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণ এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
 ​মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন দেবনাথ বলেন, কারখানার শ্রমিক ও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের ফলে মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটছে। এমনকি ‘মলম পার্টি’ বা ‘অজ্ঞান পার্টি’র খপ্পরে পড়ে অনেক নারী ভক্ত তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ হারিয়েছেন। জায়গার অভাবে ভক্তরা ঠিকমতো পূজা-অর্চনা করতে পারছেন না এবং শব্দ দূষণের ফলে শান্তিতে প্রার্থনা করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত তদন্তপূর্বক অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ কে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন,মন্দিরের বর্তমান এবং সাবেক দুই কমিটিকে নিয়েই বসে ছিলাম। আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বর্তমান কার্যকরী কমিটি যদি চায় তারা উন্নয়নমূলক কাজ করবে,তাতে কেউ বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’