শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

লুধুয়া হাই স্কুল ও কলেজের পক্ষ থেকে এমপি জালাল উদ্দিনকে সংবর্ধনা

কিশোরগ্যাং সৃস্টির জন্য দায়ী শিক্ষক ও অভিভাবকরা : ড. জালাল উদ্দিন এমপি

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
কিশোরগ্যাং সৃস্টির জন্য দায়ী শিক্ষক ও অভিভাবকরা : ড. জালাল উদ্দিন এমপি

চাঁদপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে বলছেন, ভবির্ষ্যত চিন্তা করে ভালো ভাবে লেখাপড়া করে নীতি-নৈতিকতা অর্জন করে জাতির সেবক হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ভাবে গড়ে উঠলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষক ও নিজের পরিবারের সুনাম হবে।

আমাদের সরকারের যে উদ্যেশ্যগুলো আছে তার মধ্য অন্যতম হলো শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং সরকার সে লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছে ৷

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া হাই স্কুল ও কলেজ আয়োজিত সংবর্ধনা সভা,বার্ষিক মিলাদ ও দোয়া এবং অভিভাবক সমাবেশের প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি ৷

ভালো ফলাফল করলে শিক্ষার্থীরা পুরুস্কার পাবে এমন ঘোষনা দিয়ে এমপি জালাল উদ্দিন আরো বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবহেলার কারনেই আজ কিশেরগ্যাং তৈরি হচ্ছে কিশোরগ্যাং সৃস্টির জন্য দায়ী শিক্ষক ও অভিভাবকরা সুতরাং আপনারা আপনাদের সন্তানের প্রতিযত্নবান হোন এবং খোজ-খবর রাখেন তারা কোথায় যায় কিকরে ৷ আর শিক্ষকরাও ছাত্র- ছাত্রীদের প্রতি আরো বেশি যত্নবানহোন ়যাতে তারা সু- শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে ৷

Model Hospital

মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন,মাদক পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংশ করে ফেলে তাই মাদকের সাথে কেউ জড়িত থাকলে মাদক ছেড়ে ভালো হয়েযান মাদকের বিষয়ে আমরা কারো সাথে কোন আপোষ করবো না ৷

লুধুয়া হাই স্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের দাবী- দাবার বিষয়ে এমপি ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন,এখানে পরিক্ষার সেন্টার হবে এবং এই স্কুলের সব দাবী- দাবা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে এবং লুধুয়া হাই স্কুল ও কলেজ একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ ৷

যাদের অক্লান্ত শ্রমের বিনিময়ে এই স্কুলের এতো উন্নয়নে হয়েছে যারা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন তাদের রুহের আত্মার মাঘফেরাত কামনা করে এবং জীবিতদের সুস্বাস্থা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি বলেন,যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই স্কুলের এতো উন্নয়ন তাদের জন্য আমরা সবাই নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করবো ৷

অনুষ্ঠানের শুরুতে চাঁদপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন কে লুধুয়া হাই স্কুল ও কলেজের পক্ষ থেকে প্রথমে ফুলের তোরা ও পরে ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয় ৷ এ ছাড়াও এমপি জালাল উদ্দিনকে ফুলের তোরা দিয়ে সংবর্ধনা দেন লুধুয়া হাই স্কুল ও কলেজের ছাত্র- ছাত্রী, লুধুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ আরো অনেকে ৷

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, লুধুয়া হাই স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো: জাকির হোসেন ৷
সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন কবির ও মনছুর আহমেদের যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি,সমাজসেবক এমদাদুল হক মানিক,প্রাত্তন ছাত্র মাইনুদ্দিন খান, অভিবাভকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মমিন সরকার প্রমুখ ৷

আলোচনা সভা শেষে ২০২৬ সালের এস এসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয় ৷

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আজহারুল হক মুকুল, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর সরকার,  সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন, তোফায়েল পাটাওয়ারী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল হাসান বেনু, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদ জামান টিপু, যুগ্ম আহবায়ক ফয়সাল আহমেদ সোহেল, মো: লিটন পাটোয়ারী’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আভিভাবকগণ, ছাত্র- ছাত্রী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ৷

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’