শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, গোপন সমঝোতার অভিযোগ!

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৯:১৫ পিএম
ফরিদগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, গোপন সমঝোতার অভিযোগ!
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় গোপন সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে ৫ তলা পর্যন্ত ভবন দৃশ্যমান হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রূপসা বাজার এলাকায় ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে মাত্র ৪০০-৫০০ ফুট দূরত্বে সরকারি সম্পত্তির ওপর ভবন নির্মাণ করছেন খোকন দেবনাথ নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ী। পূর্বে সেখানে ‘দেবনাথ ফার্মেসি’ নামে একটি দোকান থাকলেও বর্তমানে তা সম্প্রসারণ করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ১৪০ নম্বর রূপসা মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৩২৪২ দাগে উক্ত জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত। জমিটি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য খোকন দেবনাথ ও তার স্ত্রী চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথকভাবে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ভূমি কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারি জমি বাদ দিয়ে নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি জমির ওপরই ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন খোকন দেবনাথ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভবন নির্মাণের আগে কোনো ধরনের মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) করা হয়নি।
তারা প্রশ্ন তোলেন, ভূমি অফিসের এত কাছাকাছি সরকারি জমিতে কীভাবে এমন বড় স্থাপনা গড়ে উঠছে। তাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে খোকন দেবনাথ বলেন, তিনি প্রায় এক শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে ভবন নির্মাণ করছেন। আগে থেকেই সেখানে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল, সেটির সঙ্গেই সংযুক্ত করে নতুন ভবন করা হচ্ছে। সয়েল টেস্ট না করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রি দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।” সরকারি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তিনি নিজস্ব জমিতেই কাজ করছেন এবং ভূমি অফিস থেকে অনুমোদন নিয়েছেন।
এদিকে, রূপসা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তকে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। তিনি জানান, অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গত ১২ এপ্রিল লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.আর.এম জাহিদ হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে খোকন দেবনাথকে তার নিজস্ব জমিতে সংস্কার কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, তিনি সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন এবং নির্মাণবিধিও লঙ্ঘন করছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দখলদারিত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’