শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

একজন মাদকাসক্ত মানেই ধ্বংসের পথে একটি পরিবার : ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
একজন মাদকাসক্ত মানেই ধ্বংসের পথে একটি পরিবার : ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া
“একজন মাদকাসক্ত শুধু নিজের জীবনই ধ্বংস করে না, ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় পুরো পরিবার ও সমাজকে। সুন্দর সমাজ গঠনে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে”-এমন আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া।
‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুস্থ-সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করি’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশ।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় তরুণ প্রজন্মের ইয়াসিন পালোয়ানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ, সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সানাউল্লাহ পালোয়ান, মাদক বিরোধী সমাবেশের উদ্যোক্তা ইয়াসিন পালোয়ান, পারভেজ পালোয়ান, রামিন পালোয়ান ও সুলতানা আহমেদ পালোয়ান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী “দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িত। অথচ মাত্র পাঁচ বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ লাখ। মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর তথ্যমতে, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৬ হাজার টাকার মাদক সেবন করে থাকে।”
তিনি আরো বলেন, “মাদক কেবল একটি নেশা নয়, এটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। একটি পরিবারের একজন সদস্য মাদকে জড়িয়ে পড়লে সেই পরিবারের শান্তি, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যায়। মাদকের ভয়াল থাবায় অনেক স্থানে সন্তানদের হাতে বাবা-মা পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনেও মাদকের প্রভাব উদ্বেগজনকভাবে কাজ করছে।”
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে— এসব বিষয়ে পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। পারিবারিক নজরদারি ও সামাজিক প্রতিরোধই পারে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিটি পরিবার, মহল্লা ও সমাজকে সোচ্চার হতে হবে। ঘরে ঘরে সচেতনতা তৈরি হলেই গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত সমাজ।”
সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পুরো আয়োজনজুড়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরা এবং তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’