শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বড়স্টেশন কমিউনিটির উদ্যোগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৯:২৮ পিএম
বড়স্টেশন কমিউনিটির উদ্যোগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব

সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ জীবনাচারের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের বড়স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাদ আসর চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদের হলরুমে এই আয়োজন করা হয়। এসময় বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা কওমি সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি সিরাজুল ইসলাম।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রাসেল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফয়সাল আহমেদ বাহার, সালাউদ্দিন সেলিম ও মোস্তফা মাল,হোসাইন চোকদার। রেলওয়ে দারুল উলুম ইসলামিয়া মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষক,কবরাস্থান রোড়, বড়ষ্টেশন মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক,, ক্লাবরোড় মসজিদের ঈমাম মুফতি মোশাররফ হোসেন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইমাম মুয়াজ্জিনগন।

Model Hospital

এছাড়া প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আমিনুল ইসলাম,কার্যকরী সদস্য সাইফুল খাঁন,রফিকুল ইসলাম, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিশিষ্ট সমাজ সেবক ফয়েস ঢালি, এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-খতিব এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বড় স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে মানবিক, নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফল উৎসবের মতো ব্যতিক্রমী আয়োজন শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং এটি সুস্থ জীবনযাপন, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের চর্চার একটি অনন্য মাধ্যম।

তারা আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। বড় স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন এলাকার শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আমরা আশা করব এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রাসেল পারভেজ বলেন, “বড় স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিকাশ অপরিহার্য। আজকের এই ফল উৎসবের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি। শিক্ষার্থীদের হাসিমুখ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগঠন অতীতেও বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ভবিষ্যতেও সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণে আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। সকলের সহযোগিতা ও দোয়া থাকলে আমরা এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবো।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন মৌসুমি ফল বিতরণের মাধ্যমে ফল উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’