বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে : ডিসি আহমেদ জিয়াউর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে : ডিসি আহমেদ জিয়াউর

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার রোধে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার : প্রেক্ষাপট ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে এর অপব্যবহারের ফলে বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি এবং জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তাই কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া শেয়ার বা প্রচার না করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও তথ্যসমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তথ্যের উৎস যাচাই করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই একটি নিরাপদ, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে একটি মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য মুহূর্তের মধ্যেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যা সামাজিক সম্প্রীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তথ্য গ্রহণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তথ্যের সত্যতা যাচাই, নির্ভরযোগ্য উৎস অনুসরণ এবং গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সচেতন নাগরিক এবং দায়িত্বশীল তথ্যচর্চাই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিনের পরিচালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার।
মূল প্রবন্ধের উপর বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রহিম বাদশা।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা, গণপূর্ত বিভাগ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান, দৈনিক মেঘনা বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক গিয়াসউদ্দিন মিলন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভন, রিয়াদ ফেরদৌস, সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, লেখক ও সংগঠক লিটন ভূইয়া, জেলা তথ্য অফিসার তপন রায়, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়ের, লেখক ও সাংবাদিক আশিক বিন রহিম।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।