বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় : জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় : জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান

চাঁদপুরে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুরে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, চাঁদপুরের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাস্তবায়িত অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান একটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক শুমারির মাধ্যমে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, সেবা খাত এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাস্তব চিত্র উঠে আসে, যা সরকারের নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে। এ অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক ও হালনাগাদ তথ্য। অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য-উপাত্ত বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এ তথ্য গবেষক, পরিকল্পনাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার সমষ্টি নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। তাই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবিএস আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকলকে তথ্য প্রদানে সচেতন ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। জেলা প্রশাসক বলেন পরিসংখ্যান আইন ১০১৩ অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক নাগরিক পরিসংখ্যানের তথ্য প্রদানে বাধ্য থাকিবে।
সেমিনারে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চাঁদপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মানিক হোসেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিনের পরিচালনায় এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আখতার হোসেন মাঝি, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সহ সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, জেলা মহৎ কর্মকতা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহীন, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশ-এর সভাপতি মনির হোসেন।
এ সময় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তিন ধরনের শুমারি পরিচালনা করে থাকে—জনশুমারি, কৃষিশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারি। ১৯৮৩ সালে দেশে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
অর্থনৈতিক শুমারির মূল লক্ষ্য হলো সময়ের বিবর্তনে দেশের কৃষিবহির্ভূত অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পর্কিত পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা। পাশাপাশি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসারে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ, জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্পে শ্রেণিবিন্যাস এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মৌলিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে ট্যাব ও জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করায় তথ্যের নির্ভুলতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভুলের পরিমাণ কমেছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে বিভাগভিত্তিক অন্তর্বর্তীকালীন প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগে ৭৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। এছাড়া দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের অবদান ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আলোচকরা বলেন, টেকসই উন্নয়ন, কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য-উপাত্তের কোনো বিকল্প নেই। পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তথ্য-উপাত্ত যত সমৃদ্ধ হবে, গবেষণা ও পরিকল্পনা তত উন্নত হবে এবং সেই অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে। তাই সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital