বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার জন্মভূমি ও শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দুপুরের পর থেকেই মাশহাদের প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকা লাখো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একটি সুসজ্জিত ট্রাকে করে খামেনির কফিন ধীরগতিতে ইমাম রেজা (আ.) মাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় শোকাহত জনতা ইরানের পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার বহন করেন।

গত ৩ জুলাই থেকে খামেনির স্মরণে সাতদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে ইরান। তেহরান, কোম এবং পরে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে দাফনের জন্য তার মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হয়।

শোকানুষ্ঠানের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবে চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।

Model Hospital

এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এদিকে কোমে শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হয়। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা হোসেইনি খামেনিসহ ইরাকের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা মরদেহ গ্রহণ করেন। বুধবার নাজাফে শোকযাত্রা শেষে মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়, যেখানে ইমাম হোসেন (আ.) ও হজরত আব্বাস (আ.)-এর মাজারে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

কারবালার কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজারে দাফন করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।