শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, শিক্ষার্থীর কল্যাণ ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নই বিবেচ্য : মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ এম
শিক্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, শিক্ষার্থীর কল্যাণ ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নই বিবেচ্য : মমিনুল হক এমপি
শাহরাস্তিতে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে সাংসদের সঙ্গে উপজেলার সকল কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সুপারদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন এবং মাধ্যমিক শিক্ষক ও সমাজকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয় জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ, বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রাপ্তি এবং এর সুফল সম্পর্কে জনমত তৈরি ও করণীয় নির্ধারণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জি. মো. মমিনুল হক এমপি। তিনি বলেন, “শিক্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, শিক্ষার্থীর কল্যাণে তাঁর অবদান এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা-ই হবে মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড। সমাজের শিক্ষিত মানুষের বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সমর্থন থাকতেই পারে। অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে একজন শিক্ষক সর্বাগ্রে একজন শিক্ষক। তাঁর মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, অতীতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের সময় এসেছে। নতুন কমিটিকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা অতীতের তিক্ততা ভুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচালনা পর্ষদকে অবশ্যই প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও সুপারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। কাউকে হয়রানি বা অপদস্থ করার মানসিকতা নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যাবে না। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি কার্যকর ও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করলে শিক্ষার মান আরও এগিয়ে যাবে।
এমপি মমিনুল হক বলেন, অতীতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম, ভুল সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক দুর্বলতা থেকে থাকলে তা গোপন না রেখে খোলামেলাভাবে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করাই সবার দায়িত্ব। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, প্রতিষ্ঠানের কল্যাণই হতে হবে সর্বোচ্চ বিবেচ্য।
তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ফি আদায়, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। একটি সুশিক্ষিত, নৈতিক ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করতে শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ সমৃদ্ধ করতে সরকার ও আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন এতে সভাপতিত্ব করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, “শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ, অভিভাবক এবং উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য।
নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, শিক্ষক-অভিভাবক সভা জোরদার, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং ঝরে পড়া রোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকবে।
মাধ্যমিক শিক্ষক ও সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন এমএসসি-এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া, বিএনপির সহ-সভাপতি ও মেহের ডিগ্রি কলেজ এবং উয়ারুক রহমানিয়া উঃবিঃর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউছুফ রুপন পাটওয়ারী, সহ-সভাপতি বিএনপি ও  অধ্যক্ষ মোজাহের হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাসান আহমেদ টিপু, মেহের ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান,সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান,  মাধ্যমিক শিক্ষক ও সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রহিম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, নিজমেহের পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলী আজগর মিয়াজী, রাজাপুরা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সায়েদুল ইসলাম, আক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা শাহরাস্তি উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’