শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উৎসবমুখর আয়োজনে সম্পন্ন হলো প্যাপিরাস পাঠাগারের একদিনের বইমেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
উৎসবমুখর আয়োজনে সম্পন্ন হলো প্যাপিরাস পাঠাগারের একদিনের বইমেলা

প্রাণের শক্তি বাড়ায় বই, বই পড়ে মানুষ হই- শ্লোগানে পথ চলা প্যাপিরাস পাঠাগার একক উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে একদিনের বইমেলা। শনিবার ২৫ জুলাই চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডের চাঁদ টাওয়ারস্থ প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ের সামনে এ মেলার আয়োজন করা হয়। বেলা সাড়ে তিনটায় ফিতা কেটে বইমেলা উদ্বোধন করেন পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক কবি আইরিন সুলতানা লিমা। তিনি বলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে সবার আগে বইয়ের দিকে ধাবিত হতে হবে। বই না পড়লে, শিক্ষার আলো না থাকলে একটি জাতি বেশি দূর এগোতে পারে না।

বইমেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণির সভাপতিত্বে, সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী ও বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপ-সভাপতি ফেরারী প্রিন্স, নাট্যজন ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আলমগীর, ভাসানী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাজিব ও ব্যবসী মনির হোসেন খান। সার্বিক তত্ত্বাধানে ছিলেন বইমেলার সদস্য সচিব মিজানুর রহমান স্বপন।

বইমেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, বই পাঠে মানুষকে উৎসাহিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হলে যুব সমাজ অন্যায় কাজ থেকে দূরে সরে থাকবে। দেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে সবার আগে শিক্ষাব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে হবে। কুসংস্কারমুক্ত একটি দেশ গড়ার জন্যে বেশি বেশি বই পড়া এবং বইমেলার আয়োজন করা এখন সময়ের দাবি।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, এ মেলা প্রতি বছর করার চেষ্টা থাকবে। খুব অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে আয়োজনটি করতে হচ্ছে। আরও দীর্ঘসময় নিয়ে কাজ করলে আরেকটু ভালোভাবে করা যেতো।

মেলায় পাঠক-পাঠিকার ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নারী পাঠকের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’