শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রকৃত উপকারভোগী বাছাইয়ে ৪৮৬ প্রার্থীর পরীক্ষা, নিয়োগ পাবেন ৯৭ জন

একটি ভুল তথ্যও যেন প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করে : ইউএনও মনিরা খাতুন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
একটি ভুল তথ্যও যেন প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করে : ইউএনও মনিরা খাতুন
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক করতে সারাদেশে শুরু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কার্যক্রম। প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে দক্ষ ও দায়িত্বশীল জনবল নিয়োগে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শাহরাস্তিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে ৯৭টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪৮৬ জন প্রার্থী।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শাহরাস্তি উপজেলা অডিটোরিয়ামে লিখিত নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মনিরা খাতুনের নেতৃত্বে চার সদস্যের নিয়োগ কমিটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুলাই পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৩৯০ জন এবং সুপারভাইজার পদে ৯৬ জনসহ মোট ৪৮৬টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ৮৯ জন এবং সুপারভাইজার হিসেবে ৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
নিয়োগে যোগ্যতার ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে কঠোর শর্ত। সুপারভাইজার পদে আবেদনকারীদের ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারীদের ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে সেই তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে। ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত আবেদনকারীদের জন্য ২৯ জুলাই পৃথক মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং আগামী ৩০ জুলাই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মনিরা খাতুন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু একটি তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প নয়, এটি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাই আমরা এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে চাই, যারা দায়িত্বশীল, সৎ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একটি ভুল তথ্য কিংবা অযোগ্য ব্যক্তির অসতর্কতা যেন কোনো প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করে, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, “সরকার একটি সমন্বিত জাতীয় পরিবারভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে। এই তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তা, ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগকালীন সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে অপচয় কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সরকারি সেবার কার্যকারিতাও আরও বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা গ্রহণ বা অযোগ্য ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তির সুযোগ কমবে। পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ কারণে সংশ্লিষ্টদের মতে, শাহরাস্তিতে শুরু হওয়া এই নিয়োগ কার্যক্রম কেবল ৯৭ জনের কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং সরকারের জনকল্যাণমূলক সেবা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার জাতীয় উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।-

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’