মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রকৃত উপকারভোগী বাছাইয়ে ৪৮৬ প্রার্থীর পরীক্ষা, নিয়োগ পাবেন ৯৭ জন

একটি ভুল তথ্যও যেন প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করে : ইউএনও মনিরা খাতুন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
একটি ভুল তথ্যও যেন প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করে : ইউএনও মনিরা খাতুন
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক করতে সারাদেশে শুরু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কার্যক্রম। প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে দক্ষ ও দায়িত্বশীল জনবল নিয়োগে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শাহরাস্তিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে ৯৭টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪৮৬ জন প্রার্থী।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শাহরাস্তি উপজেলা অডিটোরিয়ামে লিখিত নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মনিরা খাতুনের নেতৃত্বে চার সদস্যের নিয়োগ কমিটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুলাই পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৩৯০ জন এবং সুপারভাইজার পদে ৯৬ জনসহ মোট ৪৮৬টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ৮৯ জন এবং সুপারভাইজার হিসেবে ৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
নিয়োগে যোগ্যতার ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে কঠোর শর্ত। সুপারভাইজার পদে আবেদনকারীদের ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারীদের ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে সেই তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে। ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত আবেদনকারীদের জন্য ২৯ জুলাই পৃথক মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং আগামী ৩০ জুলাই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মনিরা খাতুন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু একটি তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প নয়, এটি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাই আমরা এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে চাই, যারা দায়িত্বশীল, সৎ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একটি ভুল তথ্য কিংবা অযোগ্য ব্যক্তির অসতর্কতা যেন কোনো প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করে, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, “সরকার একটি সমন্বিত জাতীয় পরিবারভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে। এই তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তা, ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগকালীন সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে অপচয় কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সরকারি সেবার কার্যকারিতাও আরও বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা গ্রহণ বা অযোগ্য ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তির সুযোগ কমবে। পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ কারণে সংশ্লিষ্টদের মতে, শাহরাস্তিতে শুরু হওয়া এই নিয়োগ কার্যক্রম কেবল ৯৭ জনের কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং সরকারের জনকল্যাণমূলক সেবা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার জাতীয় উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।-

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।