শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপত্তা, যানজট নিরসন, পরিচ্ছন্ন বাজার ও ব্যবসায়ীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

হাজীগঞ্জ বাজারকে আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে চাই : সভাপতি প্রার্থী ইকবাল হোসেন মজুমদার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
হাজীগঞ্জ বাজারকে আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে চাই : সভাপতি প্রার্থী ইকবাল হোসেন মজুমদার

আসন্ন হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে সভাপতি পদপ্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন মজুমদার হাজীগঞ্জ বাজারের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের কাছে আন্তরিক দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।

এক বার্তায় তিনি বলেন, হাজীগঞ্জ বাজার শুধু একটি ব্যবসা কেন্দ্র নয়, এটি হাজারো ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা, আস্থা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও ব্যবসাবান্ধব বাজার হিসেবে গড়ে তুলতেই তিনি সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

তিনি জানান, নির্বাচিত হলে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যানজট নিরসন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নতুন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্য সুদৃঢ় করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ইকবাল হোসেন মজুমদার বলেন, “হাজীগঞ্জ বাজার আমাদের সবার। ব্যবসায়ীদের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই বাজারকে আরও উন্নত ও আধুনিক করা সম্ভব। আমি সবসময় ব্যবসায়ীদের পাশে থাকতে চাই। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও মূল্যবান সমর্থনই আমার পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সেবামুখী ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, ইকবাল হোসেন মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে একজন সৎ, দক্ষ ও জনপ্রিয় ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সবশেষে সভাপতি পদপ্রার্থী ইকবাল হোসেন মজুমদার আসন্ন নির্বাচনে হাজীগঞ্জ বাজারের সকল ব্যবসায়ীর কাছে আন্তরিক দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’