সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে জনপ্রিয়তা বাড়ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শ্রাবনী সাহার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০২২, ৩:৩৬ পিএম
চাঁদপুরে জনপ্রিয়তা বাড়ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শ্রাবনী সাহার
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়ার হোমিও চিকিৎসক ডাঃ শ্রাবনী সাহার সুনাম সবার মুখে মুখে। তিনি কোড়ালিয়া সড়কে মা হোমিও ফার্মেসীতে নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে এ সুনাম অর্জন করেছেন।
জানা যায়, শ্রাবনী সাহা ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারী থেকে কোড়ালিয়ার নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখা শুরু করেন। নারী ও শিশু রোগীদের নানাবিধ সুচিকিৎসা করে যাচ্ছেন বলে অল্প দিনেই তার ভালো চিকিৎসার সুনাম ছড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি ঢাকা থেকে ডি. এইচ. এম. এস (রেজি নং-৩০৬০৩) অর্জন করেছেন। তিনি চাঁদপুর সদরের খলিশাডুলীতে অবস্থিত আদর্শ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ২০১৫ সালেই অধ্যয়ন শেষ করেছেন।
জান্নাত নামের এক নারী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ১টি জটিল রোগে ভুগছিলাম। পরে কোড়ালিয়ার মা হোমিও ফার্মেসীতে বসা ডাঃ শ্রাবনী সাহার শরনাপন্ন হই। ইনশাআল্লাহ তার চিকিৎসা নিয়ে নিয়মিত হোমিও ঔষুধ সেবন করে এখন আগের চাইতে অনেকটা সুস্থ্য আছি।
মোঃ আলমগীর নামের আরেক লোক বলেন, আমার হাত পা ঘামাতো। পরে আমি কোড়ালিয়া সড়কের মা হোমিও ফার্মেসীতে গিয়ে ডাঃ শ্রাবনী সাহাকে বিস্তারিত বলি। তিনি মনযোগ সহকারে আমার রোগের কথা শুনে হোমিও ঔষুধ দেন। এখন আর আমার হাত পা ঘামায় না।
১৬ মার্চ বুধবার মা হোমিও ফার্মেসীতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, চিকিৎসক হিসেবে ডাঃ শ্রাবনী সাহা যথেষ্ট আন্তরিক। তিনি অনেকটা সময় নিয়েই রোগের সম্পর্কে শুনেন। এরপর প্রয়োজনীয় হোমিও ঔষুধ দেন। এমনকি তিনি এই হোমিও চিকিৎসা দিতে গিয়ে ঔষুধের খরছ ব্যাতীত নিজের জন্য কোন ফি নেন না। এটি তার একটি মানবিক গুণ বলা যেতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে মা হোমিও ফার্মেসীতে বসা ডাঃ শ্রাবনী সাহা বলেন, আমি চেষ্টা করি হোমিও চিকিৎসা সেবার সুনাম সেবাপ্রার্থীদের দৌঁড়গোরায় পৌঁছে দিতে। সম্মাণটুকু নিয়ে যাতে জীবনের শেষ সময়টুকু পর্যন্ত আন্তরিকতারসহিত মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারি। সেজন্য সকলের আশির্বাদ কামনা করছি।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।