শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন কর আরোপ ছাড়াই........

শাহরাস্তি পৌরসভার ৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
শাহরাস্তি পৌরসভার ৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা
নাগরিকদের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ ছাড়াই চাঁদপুরের শাহরাস্তি (ক-শ্রেণির) পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ২৯৯ টাকা আয়, ৪৫ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় এবং ১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ২৯৯ টাকা সমাপনী উদ্বৃত্ত রেখে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে শাহরাস্তি পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের সভাপতিত্বে বাজেটের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী  ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান।
ঘোষিত বাজেটের সার-সংক্ষেপে দেখা যায়, রাজস্ব হিসাবে আয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৮৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৮ টাকা, ব্যয় ১০ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৬৯ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৮ টাকা। পানি রাজস্ব হিসাবের আয় ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ব্যয় ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে মোট রাজস্ব বাজেটে আয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫৮ টাকা, ব্যয় ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫৮ টাকা।
এছাড়া উন্নয়ন হিসাবে আয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬৪১ টাকা, ব্যয় ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৪১ টাকা। মূলধন হিসাবের আয় ৭৫ লাখ টাকা, ব্যয় ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বাজেটে মোট আয় ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ২৯৯ টাকা, মোট ব্যয় ৪৫ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং সমাপনী উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ২৯৯ টাকা রাখা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, নতুন কোনো কর আরোপ না করেই নাগরিক সেবার পরিধি বৃদ্ধি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার, পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং গরু-ছাগলের হাট, কসাই খানা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশিষ্ট নাগরিকদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, পৌরবাসীর পানি, সড়ক, ড্রেনেজ ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যেও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পৌরসভার ব্যয় সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব আয় ও সরকারের সীমিত অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। সেবারমান বাড়াতে জনগণকে ট্যাক্স পরিশোধে আরো উদ্বুদ্ধ হতে হবে। এ ছাড়া পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে পানি শোধনাগারে ক্লোরিন ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ব্যবহারের সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল নিয়োগ হলে নাগরিক সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পৌর প্রশাসক আরও বলেন, দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবেন।
এবারের বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত ভৌত অবকাঠামো, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ সংক্রামক রোগ  প্রতিরোধে এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রমে পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মশক নিধন কার্যক্রমের জন্যও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া শাহরাস্তি পৌরসভার টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে আরবান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট-২ (UCRIP-II) এবং লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর জেলার পৌরসভাসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যা বাস্তবায়নে আমরা আশাবাদী।
উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রশীদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসহাক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নোমান হোসেন এবং প্রধান সহকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুবায়ের আল নাহিয়ান রাজু এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল।
গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মইনুল ইসলাম কাজল, মো. মাসুদ রানা, নোমান হোসেন আখন্দ, ফয়সাল আহমেদ ও আবু মুসা সিহাব।এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুধীজন এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উন্মুক্ত আলোচনা ও বাজেট অধিবেশন শেষে পৌর প্রশাসক উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’