শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৭ এম
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম ইকরাম চৌধুরীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে শহরের নাজিরপাড়াস্থ চাঁদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদে দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ পরিবারের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে মুনাজাতরত চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ মুসল্লিবৃন্দ ।

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক নেতা মরহুম ইকরাম চৌধুরীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার(৮আগস্ট) বাদ আছর শহরের নাজিরপাড়াস্থ চাঁদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ পরিবারের উদ্যোগে এই মিলাদ ও দোয়া আয়োজন করা হয়।

মিলাদ ও দোয়ার পূর্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি বলেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম ইকরাম চৌধুরীর আজ ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী, আমি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে মরহুম ইকরাম চৌধুরীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি, আল্লাহ যেন মরহুমকে জান্নাত নসিব করেন। দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকার আয়োজনে আজকের দোয়ার আয়োজন করায় পরিবারের প্রতি ধন্যাবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, মরহুম ইকরাম চৌধুরী চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের একাধিকবার সভাপতি-সেক্রেটারীর দায়িত্ব ছিলেন। আজকের প্রেস ক্লাবে যে বহুতল ভবন তা তৎকালীন সভাপতি এড: ইকবাল বিন বাশার ও সেক্রেটারী ইকরাম চৌধুরী নেতৃত্বে হয়েছে। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিক রেখেছেন । মরহুম ইকরাম চৌধুরী সাংবাদিকদের নেতা ও সাংবাদিক বান্ধব মানুষ ছিলেন। আমি দৈনিক চাঁদপুর দর্পণে কাজ করার সুবাধে উনার সানিধ্য পেয়েছি ৷ আমাকে তিনি ছেলের মত জানতেন। তার কাছ থেকে আমার অনেক কাজ শিখার সুযোগ হয়েছে । তিনি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করছে। সাংবাদিকদের জন্য কাজ করে গেছেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় । চাঁদপুর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকরা তাকে আজীবন স্মরণ রাখবে ।

Model Hospital

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, মরহুমের ভাই ও দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের প্রধান সম্পাদক মুনির চৌধুরীর পরিচালনায় দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, সাবেক সভাপতি, মরহুমের ভাই ও দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের ভারপ্রাপ্ত সম্পাক শরীফ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মাও: এ এইচ এম আহসান উল্লাহ,দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ, চাঁদপুর ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি অ্যাড: চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সদস্য আশ্রাফুল আলম, দৈনিক চাঁদপুর দর্পনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সুজন চৌধুরী,সাংবাদিক আলমগীর পাটোয়ারীসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ ও মুসল্লীগণ।

দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা নিজামুল হক।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’