শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে একটি কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো : ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাঁদপুর ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে একটি কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো : ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান

চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুর ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব এস এম এন জামিউল হিকমা-এর সঞ্চালনায় সভায় চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত, গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের জন্য একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা ও মতামত বিনিময় করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা এর আগেও একবার বসেছিলাম। চাঁদপুরের কল্যাণে বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের নিয়ে চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে কীভাবে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা চিন্তা করেছি, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের পরিধি আরও বড় করতে হলে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই আজ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের একসঙ্গে নিয়ে বসা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন বড় একটি কাজ রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের জন্য একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। এটি একটি বড় ধরনের নির্মাণকাজ। কাজটি যদি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ফাউন্ডেশনের জন্য একটি স্থায়ী সম্পদ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে চাঁদপুরের মানুষের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে ফাউন্ডেশন একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তিও পাবে।
আহমেদ জিয়াউর রহমান আরও বলেন, এ ধরনের বড় কাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কারিগরি, প্রশাসনিক ও সার্বিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দপ্তরের কর্মকর্তারা দায়িত্বে রয়েছেন এবং যাদের চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, আপনাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। আপনাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা কাজটিকে এগিয়ে নিতে চাই।
শিক্ষা বৃত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে, কীভাবে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে এবং কীভাবে একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়—এসব বিষয় নিয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে হবে। যাতে প্রকৃত মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির সুফল পায় এবং ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, আমরা চাই চাঁদপুর ফাউন্ডেশন শুধু একটি সংগঠন হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে চাঁদপুরের মানুষের কল্যাণে একটি কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো। এজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকের সভার আলোচনার মাধ্যমে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করছি, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় অংশ নেন, চাঁদপুর  এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর সদরের সহকারী কমিশনার ভূমি  (এসিল্যান্ড) বাপ্পী দত্ত রনি, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড:শামসুল ইসলাম মন্টু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন জুনু, চাঁদপুর পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মোঃ সোহরাব হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উৎপল পোদ্দার, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতাহার ইকবাল, উপসহকারী প্রকৌশলী (আরএসডি) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা কালচারাল অফিসার দিতি সাহা, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, সোনালী ব্যাংক পিএলসি চাঁদপুর শাখার ম্যানেজার মোঃ মফিজ উদ্দীন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক মোঃ লোকমান হোসেন, উদয়ন শিশু বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন এবং কর্নার ডেভেলপার্স লি.-এর পক্ষে প্রতিনিধি  মোঃ জয়নাল আবেদীন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’