বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে একটি কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো : ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাঁদপুর ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে একটি কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো : ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান

চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুর ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব এস এম এন জামিউল হিকমা-এর সঞ্চালনায় সভায় চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত, গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের জন্য একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা ও মতামত বিনিময় করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা এর আগেও একবার বসেছিলাম। চাঁদপুরের কল্যাণে বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের নিয়ে চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে কীভাবে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা চিন্তা করেছি, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের পরিধি আরও বড় করতে হলে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই আজ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের একসঙ্গে নিয়ে বসা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন বড় একটি কাজ রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের জন্য একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। এটি একটি বড় ধরনের নির্মাণকাজ। কাজটি যদি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ফাউন্ডেশনের জন্য একটি স্থায়ী সম্পদ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে চাঁদপুরের মানুষের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে ফাউন্ডেশন একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তিও পাবে।
আহমেদ জিয়াউর রহমান আরও বলেন, এ ধরনের বড় কাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কারিগরি, প্রশাসনিক ও সার্বিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দপ্তরের কর্মকর্তারা দায়িত্বে রয়েছেন এবং যাদের চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, আপনাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। আপনাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা কাজটিকে এগিয়ে নিতে চাই।
শিক্ষা বৃত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে, কীভাবে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে এবং কীভাবে একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়—এসব বিষয় নিয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে হবে। যাতে প্রকৃত মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির সুফল পায় এবং ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, আমরা চাই চাঁদপুর ফাউন্ডেশন শুধু একটি সংগঠন হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে চাঁদপুরের মানুষের কল্যাণে একটি কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো। এজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকের সভার আলোচনার মাধ্যমে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করছি, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় অংশ নেন, চাঁদপুর  এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর সদরের সহকারী কমিশনার ভূমি  (এসিল্যান্ড) বাপ্পী দত্ত রনি, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড:শামসুল ইসলাম মন্টু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন জুনু, চাঁদপুর পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মোঃ সোহরাব হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উৎপল পোদ্দার, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতাহার ইকবাল, উপসহকারী প্রকৌশলী (আরএসডি) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা কালচারাল অফিসার দিতি সাহা, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, সোনালী ব্যাংক পিএলসি চাঁদপুর শাখার ম্যানেজার মোঃ মফিজ উদ্দীন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক মোঃ লোকমান হোসেন, উদয়ন শিশু বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন এবং কর্নার ডেভেলপার্স লি.-এর পক্ষে প্রতিনিধি  মোঃ জয়নাল আবেদীন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।