শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি : অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি : অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম

চাঁদপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট এডহক কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি সভায় এডহক কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এ কে এম সলিম উল্লা সেলিম৷

চাঁদপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের অ্যাডহক কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯ আগস্ট (বুধবার) বিকেল ৫টায় চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ভবনের ইউনিট কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট অ্যাডহক কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্লা সেলিম। তিনি তাঁর স্বাগত বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, “আমি আজ মরহুম এম এ গফুর সাহেবকে স্মরণ করছি। মাসুদ ভূঁইয়াসহ বিগত দিনে যারা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের জন্য শ্রম দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরও স্মরণ করছি। তারা রেড ক্রিসেন্টের জন্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করেছেন। অনেক গুণীজন রেড ক্রিসেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। যারা রেড ক্রিসেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি পরিবার। তাই আমরা নতুন পরিবার হিসেবে যাত্রা শুরু করলাম। শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি মহোদয়ের প্রতি আমরা সর্বদা কৃতজ্ঞ। তিনি চান, চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নতুন কমিটি কার্যকর ও গতিশীল হবে। তাই চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেই সঙ্গে আত্মমানবতার সেবায় কাজ করব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করব।”এডভোকেট সলিম উল্লা সেলিম বলেন, “এমপি মানিক ভাই আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।

আমরা যদি মানুষের সেবা দিতে না পারি, তাহলে কমিটিতে থাকা আমাদের ব্যর্থতা হবে।” তিনি বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের পুরানবাজারে একটি হাসপাতাল রয়েছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন। আমরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঢাকা হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালটি পূর্ণোদ্যমে চালু করার উদ্যোগ নেব, যাতে সাধারণ ও অসহায় মানুষ কম খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন।”তিনি আরও বলেন, “চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই রেড ক্রিসেন্টের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি রেড ক্রিসেন্টকে মানবতার সেবায় নিয়োজিত করতে চান। তাই এমপি মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।” তিনি বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা।

Model Hospital
চাঁদপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট এডহক কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এ কে এম সলিম উল্লা সেলিম৷

চাঁদপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে আমাকে সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। আমাদের একটাই লক্ষ্য আত্মমানবতার সেবায় আমরা নিয়োজিত হব। যেকোনো সময় যেকোনো দুর্যোগ, এমনকি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ ঘটলে সেখানেই রেড ক্রিসেন্টকে এগিয়ে যেতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূল চালিকাশক্তি যুব রেড ক্রিসেন্ট। তারা আমাদের অগ্রভাগে থাকবে। সবাই মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। এই মনোগ্রাম আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত। এ সংগঠন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

আমরা আত্মমানবতার সেবায় কাজ করব।” চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট অ্যাডহক কার্যনির্বাহী কমিটির সেক্রেটারি ফয়সাল আহমেদ বাহার ও চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল করিমের পরিচালনায় সভায় অংশগ্রহণ করেন ও বক্তব্য দেন রেড ক্রিসেন্ট চাঁদপুর ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক মুনির চৌধুরী, সদস্য তমাল কুমার ঘোষ, সদস্য অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম, সদস্য সাংবাদিক কাজী শাহাদাত, সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদী, সদস্য ডা. মো. জাহাঙ্গীর খান, সদস্য ডা. জওহর লাল আচার্য, সদস্য আলমগীর আলম জুয়েল ও সদস্য মো. রিয়াজুর রহমান রানা প্রমুখ।

এ সময় চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) শেখ মহিউদ্দিন রাসেলসহ চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্য, যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে যুব রেড ক্রিসেন্ট ও সংগঠনের পক্ষ থেকে রেড ক্রিসেন্ট অ্যাডহক কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিমউল্লাহ সেলিমসহ কমিটির সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সভায় তিন মাসের মধ্যে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন সম্পন্ন করা, রেড ক্রিসেন্ট ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ জন্য একটি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়।

এছাড়াও চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বিগত দিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটিসহ কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’