শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে নৌযান শুমারি ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
চাঁদপুরে নৌযান শুমারি ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে চাঁদপুরে নৌযান শুমারি ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানসহ জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, চাঁদপুরের উপপরিচালক মানিক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশের নৌযান খাতের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬।

নৌযান শুমারি উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁদপুর বড়স্টেশনের ঐতিহ্যবাহী মোলহেডে রক্তধারার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানসহ জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, চাঁদপুরের উপপরিচালক মানিক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নৌযান শুমারি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গণনাকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও শুমারির লোগোসংবলিত ছাতা নিয়ে স্লোগান ও বাদ্যযন্ত্রসহ র‍্যালিতে অংশ নেন। উৎসবমুখর পরিবেশে র‍্যালিটি রক্তধারার সামনে থেকে শুরু হয়ে ইলিশ ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ডাটাবেজের মাধ্যমে নৌযান নিবন্ধনসহ নৌপরিবহন খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করা যাবে।

Model Hospital

শুমারির আওতায় বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয়, অভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য জলসীমায় চলাচলকারী সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ডাম্ব বার্জ এবং নিজস্ব ইঞ্জিন না থাকলেও অন্য যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কা দিয়ে পরিচালিত নৌযান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক ও রিসোর্টের কৃত্রিম লেক বা জলাশয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও স্পিডবোটও শুমারির আওতায় থাকবে।

তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌযান বা জাহাজ এবং তাদের মালিকানাধীন অন্যান্য নৌযান এ শুমারির আওতাভুক্ত নয়। একইভাবে সাধারণ ইঞ্জিনবিহীন নৌকাও শুমারির বাইরে থাকবে।

নৌযানের সংখ্যা ও ঘাটের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের লক্ষ্যে গত ৪ থেকে ১৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত লিস্টিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এ সময় লিস্টাররা লিস্টিং ম্যাপের মাধ্যমে ঘাটের অবস্থান নির্ধারণের পাশাপাশি সিএপিআই অ্যাপের মাধ্যমে নৌযানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও এন্ট্রি করেন।

পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা সমন্বয়কারীরা লিস্টারদের সহায়তায় জোন ও গণনা এলাকা নির্ধারণ করেন এবং হালনাগাদ ম্যাপ প্রকল্প দপ্তরে জমা দেন। একই সঙ্গে সমন্বিত আদমশুমারি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (আইসিএমএস)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করা হয়।

দ্বিতীয় জোনাল অপারেশনের মাধ্যমে গণনা এলাকার ম্যাপ যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর চাঁদপুর জেলাকে ১৬টি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার ১৫০টি ঘাটের ১৫৭টি গণনা এলাকায় ১১২ জন গণনাকারী আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করবেন। উল্লেখ্য, লিস্টিং কার্যক্রমে চাঁদপুর জেলায় মোট ৮ হাজার ১৭৪টি নৌযানের তথ্য পাওয়া গেছে।

নৌযান শুমারি সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১১২ জন গণনাকারী ও ১৬ জন জোনাল অফিসারের জন্য তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে শুমারির উদ্দেশ্য, গণনাপদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ, সিএপিআই অ্যাপ ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নৌযান শুমারি ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি হবে। সংগৃহীত পরিসংখ্যানিক তথ্য নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পনা প্রণয়ন, নৌযান নিবন্ধন এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’