বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে নৌযান শুমারি ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
চাঁদপুরে নৌযান শুমারি ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে চাঁদপুরে নৌযান শুমারি ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানসহ জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, চাঁদপুরের উপপরিচালক মানিক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশের নৌযান খাতের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬।

নৌযান শুমারি উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁদপুর বড়স্টেশনের ঐতিহ্যবাহী মোলহেডে রক্তধারার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানসহ জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, চাঁদপুরের উপপরিচালক মানিক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নৌযান শুমারি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গণনাকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও শুমারির লোগোসংবলিত ছাতা নিয়ে স্লোগান ও বাদ্যযন্ত্রসহ র‍্যালিতে অংশ নেন। উৎসবমুখর পরিবেশে র‍্যালিটি রক্তধারার সামনে থেকে শুরু হয়ে ইলিশ ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ডাটাবেজের মাধ্যমে নৌযান নিবন্ধনসহ নৌপরিবহন খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করা যাবে।

Model Hospital

শুমারির আওতায় বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয়, অভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য জলসীমায় চলাচলকারী সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ডাম্ব বার্জ এবং নিজস্ব ইঞ্জিন না থাকলেও অন্য যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কা দিয়ে পরিচালিত নৌযান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক ও রিসোর্টের কৃত্রিম লেক বা জলাশয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও স্পিডবোটও শুমারির আওতায় থাকবে।

তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌযান বা জাহাজ এবং তাদের মালিকানাধীন অন্যান্য নৌযান এ শুমারির আওতাভুক্ত নয়। একইভাবে সাধারণ ইঞ্জিনবিহীন নৌকাও শুমারির বাইরে থাকবে।

নৌযানের সংখ্যা ও ঘাটের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের লক্ষ্যে গত ৪ থেকে ১৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত লিস্টিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এ সময় লিস্টাররা লিস্টিং ম্যাপের মাধ্যমে ঘাটের অবস্থান নির্ধারণের পাশাপাশি সিএপিআই অ্যাপের মাধ্যমে নৌযানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও এন্ট্রি করেন।

পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা সমন্বয়কারীরা লিস্টারদের সহায়তায় জোন ও গণনা এলাকা নির্ধারণ করেন এবং হালনাগাদ ম্যাপ প্রকল্প দপ্তরে জমা দেন। একই সঙ্গে সমন্বিত আদমশুমারি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (আইসিএমএস)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করা হয়।

দ্বিতীয় জোনাল অপারেশনের মাধ্যমে গণনা এলাকার ম্যাপ যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর চাঁদপুর জেলাকে ১৬টি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার ১৫০টি ঘাটের ১৫৭টি গণনা এলাকায় ১১২ জন গণনাকারী আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করবেন। উল্লেখ্য, লিস্টিং কার্যক্রমে চাঁদপুর জেলায় মোট ৮ হাজার ১৭৪টি নৌযানের তথ্য পাওয়া গেছে।

নৌযান শুমারি সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১১২ জন গণনাকারী ও ১৬ জন জোনাল অফিসারের জন্য তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে শুমারির উদ্দেশ্য, গণনাপদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ, সিএপিআই অ্যাপ ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নৌযান শুমারি ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি হবে। সংগৃহীত পরিসংখ্যানিক তথ্য নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পনা প্রণয়ন, নৌযান নিবন্ধন এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।