মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে হঠাৎ ডাকাতিয়ার ভাঙনে আতঙ্কে রঘুনাথপুরের অর্ধশত পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম
চাঁদপুরে হঠাৎ ডাকাতিয়ার ভাঙনে আতঙ্কে রঘুনাথপুরের অর্ধশত পরিবার
বসতভিটা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরদারি অতীব জরুরী জরুরী।
চাঁদপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর এলাকায় হঠাৎ করে ডাকাতিয়া নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ঐ এলাতার পাটোয়ারী বাড়ির প্রায় ৩০টি পরিবার।
নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রঘুনাথপুর ওয়াবদা সংলগ্ন পাটোয়ারী বাড়ি এলাকার মোহসিন পাটোয়ারী,মহিউদ্দিন পাটোয়ারী, আহসান পাটোয়ারী, শরীফ পাটোয়ারী, ফারুক পাটোয়ারী, সুলতান, হারুন, শহিদসহ প্রায় ২০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি ডাকাতিয়া নদীর তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫’শ’ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিনই নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এসব পরিবারের কাছে বসতভিটাই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
চোখের সামনে নদীর পাড় ভাঙতে থাকায় কখন যে ঘরবাড়ি ও জমিজমা নদীতে বিলীন হয়ে যায়-এই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
বিশেষ করে ভাঙন যদি দ্রুত বিস্তৃত হয়, তাহলে শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, আশপাশের আরও বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
তবে চাঁদপুরের নদীভাঙন নতুন কোনো সমস্যা নয়।
মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর ভাঙনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নদীভাঙন শুরু হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ভাঙনস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে নদীর স্রোত ও তীরের পরিস্থিতি পরিমাপের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা কিংবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ ও জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করুন। পাশাপাশি জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর ভাঙন এখনই ঠেকানো না গেলে পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তখন শুধু বসতভিটা রক্ষাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁদপুরের নদীভাঙন রোধে বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রতিরক্ষা কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন,গত বছর কিছু জিওবেগ  ফেলে কিছুটা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এটা আমাদের নজরে আছে তবে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। আমার দ্রুত সময়ে মধ্যে বেবস্থা নিবো।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বসবাসকারী এসব পরিবারকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় স্থায়ী সমাধান কবে হবে? তাদের মতে, নদী যখন ঘরের উঠানে এসে পৌঁছেছে, তখন আশ্বাস নয়—দ্রুত দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে জরুরি।
পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং নদীভাঙনের কবল থেকে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।