শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে হঠাৎ ডাকাতিয়ার ভাঙনে আতঙ্কে রঘুনাথপুরের অর্ধশত পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম
চাঁদপুরে হঠাৎ ডাকাতিয়ার ভাঙনে আতঙ্কে রঘুনাথপুরের অর্ধশত পরিবার
বসতভিটা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরদারি অতীব জরুরী জরুরী।
চাঁদপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর এলাকায় হঠাৎ করে ডাকাতিয়া নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ঐ এলাতার পাটোয়ারী বাড়ির প্রায় ৩০টি পরিবার।
নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রঘুনাথপুর ওয়াবদা সংলগ্ন পাটোয়ারী বাড়ি এলাকার মোহসিন পাটোয়ারী,মহিউদ্দিন পাটোয়ারী, আহসান পাটোয়ারী, শরীফ পাটোয়ারী, ফারুক পাটোয়ারী, সুলতান, হারুন, শহিদসহ প্রায় ২০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি ডাকাতিয়া নদীর তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫’শ’ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিনই নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এসব পরিবারের কাছে বসতভিটাই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
চোখের সামনে নদীর পাড় ভাঙতে থাকায় কখন যে ঘরবাড়ি ও জমিজমা নদীতে বিলীন হয়ে যায়-এই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
বিশেষ করে ভাঙন যদি দ্রুত বিস্তৃত হয়, তাহলে শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, আশপাশের আরও বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
তবে চাঁদপুরের নদীভাঙন নতুন কোনো সমস্যা নয়।
মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর ভাঙনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নদীভাঙন শুরু হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ভাঙনস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে নদীর স্রোত ও তীরের পরিস্থিতি পরিমাপের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা কিংবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ ও জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করুন। পাশাপাশি জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর ভাঙন এখনই ঠেকানো না গেলে পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তখন শুধু বসতভিটা রক্ষাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁদপুরের নদীভাঙন রোধে বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রতিরক্ষা কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন,গত বছর কিছু জিওবেগ  ফেলে কিছুটা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এটা আমাদের নজরে আছে তবে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। আমার দ্রুত সময়ে মধ্যে বেবস্থা নিবো।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বসবাসকারী এসব পরিবারকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় স্থায়ী সমাধান কবে হবে? তাদের মতে, নদী যখন ঘরের উঠানে এসে পৌঁছেছে, তখন আশ্বাস নয়—দ্রুত দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে জরুরি।
পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং নদীভাঙনের কবল থেকে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital