শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি নিয়ে শাহমাহমুদপুর যুবদলের অংশগ্রহণ

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৯ পিএম
চাঁদপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি নিয়ে শাহমাহমুদপুর যুবদলের অংশগ্রহণ
উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুর সদর উপজেলার চারনং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদল।
ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান পাটওয়ারীর নেতৃত্বে শহরের চিত্রলেখা মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে উপজেলা যুবদলের কর্মসূচিতে যোগ দেয়। পরে চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের হয়ে জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভাস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুর জেলা যুবদলের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি সাজ্জাদুল হক সোহাগ, জহির বেপারী, শরীফ হোসেন বৈদ্য, ওয়াসিম হাজী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব গাজী, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন কুসুম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল কাজী, উপজেলা যুবদল নেতা শওকত কারী। এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের দেয়া বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শোভাযাত্রা।
উক্ত শোভাযাত্রায় আরো অংশগ্রহণ করেন, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা এনামুল হক, সোহাগ তপদার, কামাল পাটওয়ারী, মজিবুর রহমান মিজি, শিপন বেপারী, বাদল খান, ওয়ার্ড যুবদল নেতা জাফর খান, নুরুল ইসলাম হাজী, আশ্রাফ আলী তালুকদার, জাফর মিজি, ইমান হোসেন মিজি, ফয়েজ পাটওয়ারী, নাজির হোসেন মোল্লা, বিল্লাল পাটওয়ারী, মিলন মিজি, ইব্রাহিম তালুকদার, ইউসুফ মিজি, নাছির পাটওয়ারী সহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’