শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব শান্তি দিবসে চাঁদপুরে মাদকবিরোধী সাইকেল র‍্যালি

মাদক নয়, তরুণদের হাতে থাকুক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা : ইউএনও জামিউল হিকমা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম
মাদক নয়, তরুণদের হাতে থাকুক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা : ইউএনও জামিউল হিকমা

বিশ্ব শান্তি দিবসে চাঁদপুরে মাদকবিরোধী সাইকেল র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম. এন জামিউল হিকমা।

বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে ‘মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরে মাদকবিরোধী ও পরিবেশবান্ধব সুস্থ জীবনযাপনের প্রচারণায় সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তন থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। পরে র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় স্টেশন মোলহেডে গিয়ে শেষ হয়। এতে দুই শতাধিক শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া শিশু-কিশোররা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান ও সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করে। এ সময় মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব ও সুস্থ জীবনযাপনের আহ্বান জানানো হয়।

র‍্যালি শেষে বড় স্টেশনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম. এন জামিউল হিকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। মাদক একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি তার শিক্ষা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক অবস্থানকেও বিপর্যস্ত করতে পারে।

Model Hospital

তিনি বলেন, কিশোর বয়স জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময় তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হবে। আর মাদকের মতো ভয়াবহ আসক্তি তাদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এ এস এম জামিউল হিকমা আরও বলেন, মাদককে কোনোভাবেই আধুনিকতা বা বিনোদনের অংশ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। মাদক থেকে দূরে থাকতে হলে ভালো বন্ধু নির্বাচন, খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের চলাফেরা ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, ‘মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন’—এই স্লোগানকে শুধু র‍্যালির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজেদের জীবনের অঙ্গীকারে পরিণত করতে হবে। নিজেরা মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি বন্ধু ও সহপাঠীদেরও মাদকমুক্ত থাকার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পরিবেশের সুরক্ষা, নিয়মিত সাইকেল চালানো, খেলাধুলা ও শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উল্লেখ্য: শিশু-কিশোরদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সুস্থ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দুই শতাধিক শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সাইকেল র‍্যালির মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তি দিবসে চাঁদপুরে মাদকবিরোধী সচেতনতার একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’