বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মনোহরপুর গ্রামবাসীর চলাচলের কালভার্ট ব্রিজটি এখন মৃত্যুফাঁদ

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ এম
মনোহরপুর গ্রামবাসীর চলাচলের কালভার্ট ব্রিজটি এখন মৃত্যুফাঁদ

কচুয়ার মনোহরপুর গ্রামের কালভার্ট ব্রিজটি ভেঙ্গে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কচুয়া-কালিয়াপাড়া মেইন সড়ক থেকে মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে বেপারি বাড়ি সংলগ্ন কালভার্ট ব্রিজটি প্রায় অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষের মৃত্যুফাঁদ পরিণতি হয়েছে। ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ রাব্বির সাথে কথা বলে জানা যায়, মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০ মিটার পিছনে বেপারি বাড়ির সামনে অবস্থিত ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, পথচারী, যানবাহনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পার হয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে—এতে অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ব্রিজে দুর্ঘটনা ঘটে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি শুধু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নয়, এলাকার সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজটির দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী ব্রিজটির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তাদের দাবি, দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হলে পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পথচারী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে, বাকি কর্মদিবসগুলোতে ৭নং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে মেলেনি তার স্বাক্ষর। অফিস সহায়ক জসিম বলেন স্যার ছুটিতে আছেন, তাঁর ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি অফিস সহায়ক।

তবে তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না থাকা এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

Model Hospital

সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনেক সময় পান না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরে অন্যত্র যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে মোঃ সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তার কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের কাছে অনুপস্থিত ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কি করতে পারেন” এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোন ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।