সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি: কচুয়ার শ্রীরামপুর মাদ্রাসা মাঠে চরম দুর্ভোগ, বন্ধ এসেম্বলি ও খেলাধুলা
জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে শ্রীরামপুর মোহাম্মদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসাটি।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শ্রীরামপুর মোহাম্মদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার একমাত্র খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। পাশাপাশি বাউন্ডারি দেওয়াল না থাকায় মাদ্রাসায় চুরিসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত ।

জানা যায়, শ্রীরামপুর মোহাম্মদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসাটি ১৯৮০ সালে স্থাপিত হয়। দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি । মাদ্রাসার মাঠটি শুধু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বা শারীরিক কসরতের জন্যই নয়, বরং এলাকার যুবকদের খেলাধুলা এবং স্থানীয় মৃত ব্যক্তিদের জানাজা পড়ার একমাত্র স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু চারপাশের রাস্তা ও জমির তুলনায় মাঠটি অনেক নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন মানিক জানান, পানি জমে থেকে ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ফলে মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে।

শ্রীরামপুর মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, আমি এ মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হই, সপ্তম শ্রেণী থেকেই দেখতেছি খেলাধুলার মাঠটা খুব অল্প পানিতে অনেক ভরে ওঠে, যেখানে আমাদের হাঁটাচলাতে খুব সমস্যা হয়। সকালে এসেম্বলিটাও করতে পারি না, যেহেতু আমরা মাদ্রাসায় পড়ি, আমাদের বোরখা পরে আসতে হয়, এখানে হাঁটাচলা করতে খুব সমস্যা, অনেকে স্লিপ খেয়ে পড়ে যায়, আর এখানে খুব অল্পতেই অনেক পরিমাণ পানি হয়ে যায়। সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমাদের মাঠটা যেন নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেন, যাতে আমরা আবারও সুন্দর মতো এই মাঠে খেলাধুলা, এসেম্বলি, সবকিছু সুন্দরভাবে করতে পারি।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং মাদ্রাসার পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত এই মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট ও বাউন্ডারি ওয়াল করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
অত্র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাঠটি তলিয়ে থাকায় বছরের অধিকাংশ সময় প্রাত্যহিক সমাবেশ, জাতীয় দিবস ও ধর্মীয় কোনো বড় অনুষ্ঠান কিংবা জানাজা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এবিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: মুনীর হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও আর্থিক বরাদ্দ কামনা করছি, যাতে শিক্ষার্থীরা আবার তাদের খেলার মাঠ ও প্রয়োজনীয় প্রাঙ্গণ ফিরে পায়।
এদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে মাদ্রাসার মাঠটি মাটি ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল।





