মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে দুর্গাপূজায় ১৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব, নিরাপত্তা জোরদার

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব আয়োজনে পাশে থাকবে প্রশাসন : ইউএনও মনিরা খাতুন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব আয়োজনে পাশে থাকবে প্রশাসন : ইউএনও মনিরা খাতুন
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসব নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। শাহরাস্তিতে পূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ ও আগত ভক্তদের যেকোনো অভিযোগ, অনুযোগ কিংবা সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ সময় তিনি পূজার সার্বিক নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সুষ্ঠুভাবে উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্তরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত টহল, ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে স্বাস্থ্যসচেতনতার সঙ্গে উৎসব পালনেরও আহ্বান জানানো হয়। পূজার দিনগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ।
পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শাহরাস্তি উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু নিখিল চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক অমৃত মজুমদার টুটন। এ সময় উপজেলার ১৯টি পূজামণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, পুরোহিত, ভক্তবৃন্দ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজক ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি লায়ন প্রকৌশলী মমিনুল হক।
বৈঠকে এমপি মমিনুল হক বলেন, “আবহমানকাল থেকে এ জনপদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে পূজা উদযাপিত হয়ে আসছে।” এ ঐতিহ্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, পুরোহিত ও ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শাহরাস্তি উপজেলায় মোট ১৯টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় ৮টি এবং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহের কালীবাড়ি, পালপাড়া, নিজমেহার দক্ষিণপাড়া, ছিখটিয়া ঠাকুরবাড়ি, ঘোষপাড়া, পুরোহিতবাড়ি, সাহাপুর চৌধুরীবাড়ি, নাওড়া ঠাকুরবাড়ি, কুলশী ঠাকুরবাড়ি, নাহারা ভৌমিকবাড়ি, জগবন্ধু সাধুর বাড়ি, পালবাড়ি, প্রসন্নপুর, খিতারপাড়, নুনিয়া দত্তবাড়ি, সূচীপাড়া মজুমদারবাড়ি, ছিখটিয়া কবিরাজবাড়ি ও বরুলিয়া পঁতিচো সর্বজনীন পূজামণ্ডপসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।