সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের গল্লাক বাজারে কেনাকাটার সময় জাল টাকাসহ ৪ নারী আটক

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ফরিদগঞ্জের গল্লাক বাজারে কেনাকাটার সময় জাল টাকাসহ ৪ নারী আটক

ফরিদগঞ্জের গল্লাক বাজারে কেনাকাটার সময় জাল টাকাসহ স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়া চার নারী।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কেনাকাটার অজুহাতে জাল টাকা সরবরাহের সময় হাতেনাতে চার নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা ও ইউপি চেয়ারম্যান। আটককৃতদের কাছ থেকে ১ হাজার ও ৫০০ টাকা মূল্যের জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক বাজারের একাধিক দোকান থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটককৃত নারীরা হলে, চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের বেপারি বাড়ির মিন্টু বেপারির স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পোয়া গ্রামের আবদুল মালেকের স্ত্রী হাসিনা আক্তার (৩০), একই এলাকার আনোয়ার গাজীর স্ত্রী পাখি (৩৮) এবং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের প্রত্যাশী গ্রামের মৃত ইলিয়াস মিয়ার স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে আটককৃত নারীরা সংঘবদ্ধভাবে গল্লাক বাজারের একাধিক দোকানে প্রবেশ করেন। তাঁরা কম দামের মালামাল কিনে ১ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে বাকি টাকা আসল হিসেবে ক্যাশ থেকে সংগ্রহ করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বাজারের এক ব্যবসায়ী নোট পরীক্ষা করে একই সিরিয়ালের (‘ক-ছ ৭৭৬৭০৮২’) একাধিক ১ হাজার টাকার জাল নোট দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে শোরগোল উঠলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা চার নারীকে ঘিরে ফেলে আটক করে।
পরে তাঁদের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী জানান, বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের জাল টাকা দেওয়ায় জনতা তাঁদের আটক করে পরিষদে নিয়ে আসে। পরে আমি ফরিদগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার নারীকে গ্রেফতার করেন এবং প্রাথমিক তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া জাল নোট জিম্মায় নেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওসি আল আমীন তালুকদার জানান, গল্লাক বাজার থেকে জাল টাকাসহ চার নারীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ১ হাজার টাকার চারটি নোটে একই সিরিয়াল নম্বর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় সিন্ডিকেট জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, এরা অনেক আগে থেকেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা দাবি করেছেন।

যে মসজিদকে ঘিরে হাজীগঞ্জের ঐতিহ্য, সেই মসজিদ ও বাজারের গল্পে ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারী

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৪ এম
যে মসজিদকে ঘিরে হাজীগঞ্জের ঐতিহ্য, সেই মসজিদ ও বাজারের গল্পে ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারী

ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, বহুমাত্রিক বাণিজ্যিক স্থাপনা ও হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান—হাজীগঞ্জের উন্নয়নগাথায় কতটা জড়িয়ে আছে ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর অবদান? আবার মসজিদ কমপ্লেক্সের সম্পদ, ব্যবস্থাপনা ও চলমান মামলাগুলো নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ—শুধু ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়; এটি ধর্মীয় অনুভূতি, আস্থা, ঐতিহ্য ও অসংখ্য মানুষের স্মৃতির এক অনন্য ঠিকানা। প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লির সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ। কেউ আসেন আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমতের আশায়, কেউবা এই ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মসজিদ হাজীগঞ্জের পরিচয় বহন করে চলেছে।

কিন্তু এই মসজিদকে ঘিরে গড়ে ওঠা হাজীগঞ্জ বাজারের বাণিজ্যিক বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির পরিবর্তনের গল্পটিও কি আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করি?

এই প্রশ্নের সঙ্গে অবধারিতভাবেই সামনে আসে একটি নাম—ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারী।

ঐতিহাসিক বড় মসজিদ: ধর্মীয় ঐতিহ্য থেকে জনমানুষের আস্থার ঠিকানা

Model Hospital

স্থানীয় ইতিহাস ও প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহ.)-এর দৌহিত্র আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) প্রথমে নিজের মালিকানাধীন বাগানবাড়িতে ছোট পরিসরে মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে স্বপ্ন ও পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বড় পরিসরে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। মসজিদ নির্মাণের জন্য নিজ উদ্যোগে ইটভাটা স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

১৩৩৭ বঙ্গাব্দে হযরত মাওলানা আবুল ফারাহ জৈনপুরী (রহ.)-এর মাধ্যমে মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয় বলে প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। মসজিদের দেয়ালে পবিত্র কোরআনের সূরা ইয়াসিন ও সূরা জুমার সংযোজনও এর ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

আজ এই মসজিদ শুধু হাজীগঞ্জের নয়, চাঁদপুর জেলার অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় নিদর্শন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মুসল্লিদের পদচারণা এবং শুক্রবারের বিশাল জামাত এই মসজিদের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

হাজীগঞ্জের বাণিজ্যিক বিকাশে ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর ভূমিকা

ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারীকে নিয়ে মানুষের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে। তাঁর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি হাজীগঞ্জের সামাজিক ও বাণিজ্যিক পরিসর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

তাঁর সঙ্গে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব, হাজীগঞ্জ রোটারি ক্লাব, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও বনফুল সংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোগের সংশ্লিষ্টতার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত। পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করেন অনেকে।

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রজনীগন্ধা মার্কেট, কওমি মাদ্রাসা মার্কেট, হাজীগঞ্জ টাওয়ার, হাজীগঞ্জ প্লাজা ও মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টারের মতো বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বহু উদ্যোক্তা; কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা মানে শুধু কয়েকটি দোকান বা ভবন নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে ব্যবসায়ী, কর্মচারী, পরিবহনশ্রমিক, সরবরাহকারী এবং তাঁদের পরিবারের জীবিকা।

সেই বিবেচনায় হাজীগঞ্জের বাণিজ্যিক বিকাশে যাঁরা পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের অবদান যেমন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করা জরুরি।

হাজীগঞ্জ বাজারের পরিচয়: ঐতিহ্য, ধর্ম ও বাণিজ্যের সম্মিলন

প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহ.)-এর নামের সঙ্গে হাজীগঞ্জের নামকরণের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। তাঁর উদ্যোগে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং হাজীর হাট থেকে হাজীর বাজার হয়ে বর্তমান হাজীগঞ্জের পরিচিতি গড়ে ওঠার কথা স্থানীয়ভাবে বলা হয়ে থাকে।

সময় বদলেছে, বদলেছে বাজারের পরিসরও। আজ হাজীগঞ্জ শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

এই বিকাশে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের অবদান রয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক বড় মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোও বাজারের বর্তমান চেহারা নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে।

তাই হাজীগঞ্জের উন্নয়নকে কোনো একজন ব্যক্তির একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখার চেয়ে বিভিন্ন সময়ের উদ্যোগ, বিনিয়োগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার আলোকে মূল্যায়ন করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।

উন্নয়নের আড়ালে ক্ষতিগ্রস্তদের কথাও ভুলে গেলে চলবে না

বড় কোনো স্থাপনা কিংবা বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠার পেছনে যেমন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা থাকে, তেমনি জমি, সম্পত্তি বা অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও থাকতে পারে।

উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বক্তব্য উপেক্ষা করা নয়। বরং যাঁরা ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন, তাঁদের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা, প্রয়োজন হলে প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন বিরোধ এড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

হাজীগঞ্জের বাণিজ্যিক বিকাশের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মসজিদের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন কেন?

ঐতিহাসিক বড় মসজিদকে কেন্দ্র করে এত বড় বাণিজ্যিক পরিসর গড়ে উঠেছে—এ বাস্তবতায় মসজিদের নিজস্ব অবকাঠামো, মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা থাকাটাই স্বাভাবিক।

মসজিদের সংস্কার, সম্প্রসারণ, মুসল্লিদের আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো তাই গুরুত্বপূর্ণ।

মসজিদ কমপ্লেক্সের সম্পদ শুধু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিষয় নয়; এটি একটি ধর্মীয় আমানত। এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।

যদি মসজিদের উন্নয়ন পরিকল্পনা, চলমান কাজ, ভবিষ্যৎ প্রকল্প ও ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়, তাহলে অনেক প্রশ্নের উত্তর স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যাবে। সমালোচনার জবাব হওয়া উচিত তথ্য, স্বচ্ছতা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে।

মামলা ও আটক হওয়ার ঘটনা: অভিযোগের বিচার হোক আইনের পথে

ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারী ও বর্তমান মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদকে ঘিরে মামলা ও আদালত-সংশ্লিষ্ট আটক হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

তবে এ ধরনের ঘটনায় আবেগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়। অভিযোগ, মামলার নথি, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা মূল্যায়ন করা উচিত।

একইভাবে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বড় পরিসরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম রয়েছে বলেই তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিত্তিহীন হয়ে যায় না। আবার মামলা হয়েছে বলেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।

প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, হিসাব কর্মকর্তা কিংবা অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মী থাকলে আর্থিক লেনদেনের দায়িত্ব কার, কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ গ্রহণ ও পরিশোধ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে কী রয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সত্য উদ্‌ঘাটিত হোক, নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা।

অসাধুতা থাকলে ব্যবস্থা, ভালো উদ্যোগ থাকলে স্বীকৃতি

কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পেছনে অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে প্রমাণ ছাড়া কোনো কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে অসৎ আখ্যা দেওয়াও উচিত নয়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সম্পদের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা গেলে মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

একই সঙ্গে যাঁরা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডে বাস্তব অবদান রেখেছেন, তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়নও প্রয়োজন।

কারও ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া মানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উপেক্ষা করা নয়। আবার অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার চাওয়া মানে তাঁর সব অবদান অস্বীকার করাও নয়।

শেষ কথা: ঐতিহ্য রক্ষা হোক, সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এই মসজিদকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক কেন্দ্র স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে। এই দুই বাস্তবতাকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তাঁর কাজের সমালোচনাও হতে পারে। তবে সেই আলোচনা হওয়া উচিত তথ্য, যুক্তি ও ন্যায়সংগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে। একইভাবে মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে।

আমাদের প্রত্যাশা—ঐতিহাসিক বড় মসজিদের পবিত্রতা অক্ষুণ্ন থাকুক, মসজিদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকুক, মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ুক, বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক এবং সংশ্লিষ্ট সব বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি হোক।

কারও অবদানকে অস্বীকার নয়, কারও অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়—হাজীগঞ্জের ঐতিহ্য, মানুষের অধিকার ও সত্যের পক্ষে থাকাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

সম্পাদনায় : সাইফুল ইসলাম সিফাত