শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) উপলক্ষে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১, ৫:৩২ পিএম
মতলব উত্তরে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) উপলক্ষে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত
মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলা ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উদ্যোগে ৩০ অক্টোবর বিকেলে ছেঙ্গারচর বাজার নুরীয়া ময়দানে পবিত্র ঈদ-এ- মিলাদুন্নবী (দ) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জশনে জুলুস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মতলব উত্তর উপজেলা ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর  সিনিয়র সহ সভাপতি, লবাইকান্দি আল আমিন আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ সরকার সাহেব মুফতি শাহ জালাল সিদ্দিকী ও মুফতি শফিকুল ইসলাম দ্বয়ের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর প্রধান উপদেষ্টা ফরাজিকান্দি ওয়েসীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি আতাউল করিম মুজাহিদ সাহবে।বদরপুর আদমিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি আমিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মুফতি ফারুক আহমদ,সহ-সভাপতি রাঢ়ীকান্দি দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইসমাঈল হোসেন,সাধারন সম্পাদক ও নেদায়ে ইসলাম মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার সহকারি অধ্যাপক মুফতি আহমদ উল্লাহ ,সহ সাধারন সম্পাদক মুফতি মোরশেদ আলম সিরাজী,যুগ্ম সম্পাদক মাওঃ আমিনুল ইসলাম সরকার, যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব হাফেজ ইকবাল হোসেন,যুগ্ম সম্পাদক শরীফ উল্লাহ দর্জি,সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শফিকুল ইসলাম,প্রকাশনা সম্পাদক আল্লামা আবদুল বারী আল আজহারী,অর্থ সম্পাদক হাফেজ কামরুল হাসান,হাফেজ   মাওঃ বদিউজ্জামান বাহার,মাওঃ আবদুল মালেক,মাওঃ আবু তালেব,মাওঃ ওয়ালি উল্লাহ আনসারী,মাওলানা আমিনুল ইসলাম,মাওলানা লোকমান বিন আঃ আজিজ,মাও আবদুস সালাম বরকতী, মাওঃ আবদুস সামাদ খান,শায়ের মোবারক হোসেন ওয়েসী, মাওঃ তাজুল ইসলাম, চাঁনমিয়া মেম্বার, নেছার আহমদ,জাকের ফ্রন্টের জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
পরে একটি র‍্যালী ছেংগার চর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নূরীয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
র‍্যালীতে ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষক, সাংবাদিক, নবী প্রেমিক শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।
মহান ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ)কে স্বাগত জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, নবীর আগমনে কূল কায়েনাত খুশি।কারন নবীর আগমন আমাদের জন্য নেয়ামত।আহলে বায়াত প্রতি যাদের মহব্বত নেই, তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কে ইমাম হোসাইন (রা) সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হবে।ইমাম হোসাইন (রা) সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’