শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মুন্সীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২, ৩:২৩ পিএম
মুন্সীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

এস এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের মুন্সীরহাট বাজার বনিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ ৭টি পদে মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিযোগীতা করেন।

২৮ আগস্ট রোববার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অবাধ-সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের স্বতঃপূর্ত অংশ গ্রহনের মধ্যদিয়ে মুন্সিরহাট বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ওসমানগনী কর্তৃক ঘোষিত ফলাফল অনুসারে মো. বাচ্ছু মিয়া (ছাতা মার্কা) ১৯০ ভোট পেয়ে সভাপতি হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদন্ধী খোরশেদ আলম মজুমদার (আনারস) প্রতিক নিয়ে ১৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন ।

আব্দুল মতিন (কলস মার্কা)২৫৭ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি হয়েছেন এবং মো. হেলাল উদ্দিন (সিলিং ফ্যান মার্কা) নিয়ে ৯৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. এরশাদ মজুমদার (তালা চাবি মার্ক) নিয়ে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন এবং সফিকুর রহমান (দেয়াল ঘড়ি মার্কা) নিয়ে ১৫৪ ভোট পেয়ে সহ-সাধারণ সম্পাদক হয়েছে ও আবু তাহের সর্দার (মাছ মার্কা) নিয়ে ১১২ ভোট পেয়েছেন ও মো. মহসিন চৌধুরী (প্রজাপ্রতি মার্কা) নিয়ে (৮৪) ভোট পেয়েছে। কোষাধ্যক্ষ পদে আল- আমিন (বই মার্কা) নিয়ে ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক (টেবিল মার্কা) নিয়ে ১১১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। প্রচার সম্পাদক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমদাদ উল্লাহ (উড়োজাহাজ মার্কা) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন, সদস্য পদে মো: সহিদ (ফুটবল মার্কা) ২৭২ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন, আবুল কাশেম (মোরগ মার্ক) ২৫৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন, যথাক্রমে মো. জিরুল্লাহ (আম মার্ক) ২৫৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন, মো. হারুন (কাপ পিরিচ মার্কা) ২১৭ ভোট, দোলোয়ার হোসেন (কাঠাল মার্কা) ২০০ ভোট, মো. নুরুল আমিন নুরু (শাপলা ফুল মার্কা) ১৭৬ ভোট, মো. রাসেল (হাঁস মার্কা) ১৩০ ভোট পেয়েছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী এবং পরাজিত প্রার্থী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাজার ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
এদিকে মুন্সিরহাট নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের স্বতঃপূর্ত অংশ গ্রহনের লক্ষে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই বরকত উল্ল্যা ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ ভোট শুরে থেকে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।

Model Hospital

অন্যদিকে অবাধ-সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন স্ব-শরীরে পর্যবেক্ষন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’