শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রাস্তায় স্পিডব্রেকার, সাইড ওয়াল ভেঙ্গে, লাল নিশানা উড়িয়ে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কাটছে ইউপি চেয়ারম্যান!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৩:৩৯ পিএম
রাস্তায় স্পিডব্রেকার, সাইড ওয়াল ভেঙ্গে, লাল নিশানা উড়িয়ে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কাটছে ইউপি চেয়ারম্যান!

ফরিদগঞ্জ  প্রতিনিধি: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্পিডব্রেকার দিয়ে ও লাল নিশানা উড়িয়ে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে মাছেরগেরসহ সরকারি জায়গা থেকে মাটি কাটছে ইউপি চেয়ারম্যান! এতে হুমকীর মুখে পড়ছে জন গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। মাটি কেটে ট্রাক দিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে সড়ক রক্ষার গাইড ওয়াল ভেঙ্গে রাষ্ট্রিয় সম্পদ নষ্ট করার অপরাধ করেছেন ঐ জনপ্রতিনিধি। যিনি এই অপরাধ করেছেন তিনি একজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যান। তাই উর্বর মাটি কাটা, অবৈধ ট্রাক ব্যবহার, রাস্তার গাইড ওয়াল ভাঙ্গা এবং নিজের খেয়ালে স্পিড ব্রেকার দেওয়ার মতো এতোগুলো অনিয়ম করার পরও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন চর ও যেই সকল জমি ধান চাষের উপযোগী সেই সকল সম্পত্তিতে যেন ধান চাষ করা হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান তা না মেনে মাছ চাষ করার জন্য অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বিক্রি করছেন। তাহলে কি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করছেন?
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদগঞ্জ খাজুরিয়া সড়কের ব্রহ্মপাড়া অংশে রাস্তায় দু’টি স্পিডব্রেকার দিয়ে, দু’টি লাল নিশানা উড়িয়ে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে ফসলি জমিসহ সরকারি জায়গা থেকে মাটি কাটছে গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বুলবুল আহাম্মেদ। এতে করে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি হুমকির মুখে পড়ছে। এছাড়াও ওই জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান যেখান থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন সেখানে সাবেক মৌজা ৩১০, বর্তমান খতিয়ান ৩/৪ এর ১৬০ ও ১৬৩ দাগে সরকারের ৩৬ শতাংস ভূমি রয়েছে। তিনি ব্যক্তিমালিকানা এবং সরকারি জায়াগাকে একসাথ করে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

জানাযায়, এ সড়কটি উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ উপজেলার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিনিয়ত এ সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ এবং শত শত গাড়ী চলাচল করে। এ ব্যস্ত সড়কে স্পীডব্রেকার এবং লাল নিশানা উড়িয়ে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কাটায় যেমনি ভাবে সড়ক হুমকির মুখে পড়ছে এবং বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকায় আতংকিত এ সড়কে চলাচলকারী সাধারন মানুষ। এ মাটি কেটে পাশ্ববর্তী ব্রিক ফিল্ডে বিক্রি করছে তারা। মাটি খেকোরা প্রভাবশালী বিধায় ভয়ে কেহই প্রতিবাদ করছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন জানান, সরকারি রাস্তার পাশ থেকে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে ফসলি জমি ও মাছের ঝিল থেকে মাটি কাটছে ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহাম্মেদ। গত কয়েকদিন ধরে এভাবে মাটি কাটাচ্ছেন তিনি। ক্ষমতাসীন দলের লোক ও ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ায় কেউ বাধা দেয়ার সাহস পাচ্ছে না। স্থানীয়রা আরো জানান, সড়কের পাশ কেটে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়াা সময় ধুলো বালির কারনে আমাদের জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। আমরা ভয়ে বাঁধা দিতে পারছিনা। তিনি চেয়ারম্যান হয়ে প্রকাশ্যে এই অনিয়ম করতে পারেন না।

Model Hospital

এ দিকে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দেখে জাকির হোসেন নামে এক লোক এগিয়ে এসে বলে, ছবি তুলে লাভ নেই, আপনারা চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করেন।

এ বিষয়ে গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বুলবুল আহাম্মেদ বলেন, ‘ আমি এই সম্পদ মৎস্য খামার করার জন্য নিয়েছি। রাস্তায় স্পিডব্রেকার ও লাল নিশানা উড়িয়ে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে সরকারি জায়গা ও ব্যাক্তি মালিকানা সম্পতি থেকে মাটি কাটার কথা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিকেলে ফরিদগঞ্জ এসে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সাথে দেখা করবো।

এ বিষয়ে গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা বেআইনি। তাকে মাটি কাটা থেকে বিরত থাকার জন্য বারন করেছি কিন্তু তিনি আমার কথা উপেক্ষা করে তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই আমি বাধ্য হয়ে উপজেলা ভূমি অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

উপজেলা মৎস অফিসার ফারহানা আক্তার বলেন, ‘তাকে বলা হয়েছে মাটি কেটে বড় জোর পাড় মেরামত করতে। মাটি বিক্রি করার কোনো অনুমতি নেই। আর এ বিষয়ে সে আমার সাথে কথা বলেনি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমুন নেছা জানান, আমি বিষয়টি জেনেছি। স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি সরকারের সম্পত্তি চিহ্নিত করে আলাদা করেতে এবং যে অংশ থেকে মাটি নিয়ে গেছে তা ভরাট করে দিতে। সেই সাথে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্যে বলা হয়েছে।

 

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital