শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নৌকার বিজয় সুনিশ্চিতের বিকল্প নেই : মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ মার্চ, ২০২৩, ৩:২৪ পিএম
নৌকার বিজয় সুনিশ্চিতের বিকল্প নেই : মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তারা আর কোনদিন দলে ফিরতে পারবেন না, আওয়ামী লীগে তাদের ঠাঁই নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম।

শনিবার (১১মার্চ) বিকেলে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল হাই প্রধানের সমর্থনে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্ত ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন তারা কখনোই আওয়ামী লীগ হতে পারেন না, তাদের জন্য দলের দরজা সবসময়ের জন্য বন্ধ থাকবে।

মায়া আরো বলেন, আমরা আপনাদের ভোট পাওয়ার দাবি রাখি। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনারা উন্নয়ন বুঝে নিন। নেত্রী আমার মাধ্যমে আপনাদের কাছে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আবদুল হাই প্রধানকে শেখ হাসিনা নিজে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাকে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

Model Hospital

তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদেরকে বিদ্যুৎ, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, উন্নত টেকসই বাড়ি, সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ জীবনমান উন্নয়ন, ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাটসহ প্রচুর উন্নয়ন করেছে। তাই আপনারা আগামী দিন নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবেন। মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার ওপর আপনাদের এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করবে। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাই নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদ উল্ল্যাহ মাস্টারের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান প্রধানের সঞ্চালনায় নির্বাচনী বৈঠকে প্রধান বক্তা ছিলেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাস্টার, মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল হাই প্রধান, আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব গাজী মুক্তার হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য রিয়াজুল হাসান রিয়াজ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাধে শ্যাম সাহা চান্দু, মোহনপুর ইউনিয়ন আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন হাওলাদার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম শিমুল, আহসান উল্ল্যাহ হাসান, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু হানিফ অভি প্রমুখ।

পরে নৌকার সমর্থনে বিরাট মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’